রংপুরে রেললাইনের ধারে নীরব মাদকপল্লি: প্রশাসনের নেই কার্যকর ভূমিকা

অনলাইন ডেস্ক:

রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকার রেললাইনের ধারে গড়ে উঠেছে এক অস্থায়ী বস্তি, যা এখন পরিণত হয়েছে নীরব এক মাদকপল্লিতে। দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যেই চলছে গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ও স্থানীয় মদ বিক্রি—তাও প্রশাসনের নাকের ডগায়।

রেলগেট থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত রেলপথ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। অধিকাংশই নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তিস্তাপাড়ের মানুষ। দারিদ্র্য, কাজের অভাব ও সরকারি উদ্যোগের অভাবে অনেকেই মাদক ব্যবসাকে জীবিকার উৎস বানিয়ে নিয়েছেন।

এক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পেটের দায়ে করছি ভাই, কাজ নাই, আয় নাই। সরকার চাইলে আমাদের জন্য কিছু করতে পারে।”

আরেকজন বলেন, “নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে এখানে ঠাঁই নিয়েছি। কোনো সাহায্য পাই না, তাই এই কাজ করতে হচ্ছে।”

স্থানীয়রা জানান, মাদক বিক্রির প্রভাবে আশপাশের শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে। শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝেও তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একাংশ নিয়মিত এই অবৈধ চক্র থেকে অর্থ নেয়, যার ফলে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, “রেললাইনের ধারে ভাসমান জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ চলছে। কিছু জটিলতা রয়েছে, তবে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, “উন্নয়ন পরিকল্পনায় বস্তির শিশু ও নারীসমাজকে অন্তর্ভুক্ত না করলে রংপুর শহরের এই অঞ্চল অপরাধকেন্দ্রে পরিণত হবে।” তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তথ্যসূত্র: আমাদের প্রতিদিন

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply