
রংপুর অফিস:
রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার তীব্র শীতে নাজেহাল হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ। হাড় কাপানো শীতের কারণে নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে বিশেষ করে শিশুদের।আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু।
গত সাত দিনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবার বয়স ১ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরো কমপক্ষে প্রায় ৬ শতাধিক শিশু।
আজ বুধবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত -শত শীত জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে আসছেন স্বজনরা। হাসপাতালে বহির্বিভাগে মাত্র দুইজন চিকিৎসককে দেখাযায়। এরপরেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীর স্বজনরা। রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দুই চিকিৎসক। দুই মেডিক্যাল কর্মকর্তা ছাড়া রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক পদের কোনও চিকিৎসককে সেখানে দেখা যায়নি।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের অনেকেই অভিযোগ আকারে বলেন, এখানে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক। রোগী দেখার নামে রোগী- ডাক্তারের খেলা চলছে।
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থেকে সাত মাসের সন্তানকে নিয়ে এসেছেন মা আফরোজা বেগম। তিনি বলেন,গত এক সপ্তাহ ধরে তার শিশু মেয়ের জ্বর কমছে না। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ সেবন করিয়েও কাজ হয়নি।
স্থানীয় চিকিৎসকরা বলছেন, নিউমোনিয়া হয়েছে। সকাল ৭টায় হাসপাতালে এসেছেন।হাতে টিকিট নিয়ে বহির্বিভাগের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার সামনে অন্তত এক‘শ জন রোগীর সিরিয়াল।তিনি জানান,মাত্র দুজন চিকিৎসকের একজন রোগী দেখছেন, অন্যজন ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। এখানে অন্তত ৫ থেকে ৭ জন চিকিৎসককে দায়িত্ব দিলে ভালো হতো। তাহলে শিশু রোগীদের কোলে নিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হতো না।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে আসা মমতাজ বেগম জানান, তার পাঁচ মাস বয়সী ছেলের কাশি কমছে না। কাশতে কাশতে বমি করছে। তার ওপর প্রচন্ড জ্বরে অস্থিরর। পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে প্রথমে জরুরি বিভাগে নিলে ডাক্তাররা তারা বহির্বিভাগে দেখাতে বললেন।
রংপুরের তারাগঞ্জের আখতার হোসেন ও তার স্ত্রী এবছরের ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানালেন। তাদের দাবি, যারা রোগী দেখছেন, তারা কেউই শিশু বিশেষজ্ঞ নন। মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে রোগী দেখালে ভালো কিছু হবে না। সন্তানকে প্রাইভেট চেম্বারে বড় ডাক্তার দেখাবেন বলে জানান তারা।
নগরীর লালবাগ বস্তি থেকে শিশু সন্তানের চিকিৎসা নিতে এসেছেন আল্পনা বেগম তার সন্তানের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এভাবেই অন্তত ৫০ জন রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেউ নিউমোনিয়া অথবা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসা নিতে।কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলবেন না বলে জানান। তবে তারা শীতের সময় বাচ্চাদের পর্যাপ্ত গরম পোশাক পরানোর জন্য অবিভাবকদে পরামর্শদেন।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ রেজাউল করিম জানান, তীব্র শীতের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের মধ্যে যাদের অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হচ্ছে, তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। গত ছয় দিনে শিশু ওয়ার্ডে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ শিশুর মত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন মারা যায়। এ ক্ষেত্রে শিশুরাও মারা যেতে পারে। তবে রোগীর স্বজনরা যথাসময়ে হাসপাতালে নিয়ে এলে অনেককে সুস্থ করা সম্ভব হতো।
এম২৪নিউজ/আখতার