
সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী (রংপুর):
স’মিল স্থাপনে বন বিভাগের লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় লাইসেন্স ছাড়াই চলছে এক হাজার ৩৪৪টি স’মিল। আর লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১৫৩ টির।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে ৪৭৫টি মিলের মধ্যে লাইসেন্স আছে নয়টির। লালমনিরহাটে দুইশটির মধ্যে ৫১টি, কুড়িগ্রামে ৩২৩টির মধ্যে ৯৩টি স’মিল লাইসেন্স নিয়ে চলছে। গাইবান্ধার ২৫২টি ও নীলফামারীর ২৪৭টি মিলের মধ্যে লাইসেন্স নেই একটিরও।
রংপুর বন বিভাগের অফিস সহকারী গোপাল চন্দ্র মহন্ত জানান, প্রতিটি স’মিলের লাইসেন্স ফি দুই হাজার ও নবায়ন ফি মাত্র পাঁচশ টাকা। কিন্তু মিল মালিকরা এ সামান্য টাকা দিয়েও লাইসেন্স করতে চান না।
মিল মালিকরা জানান, লাইসেন্স নিতে গেলে বন বিভাগের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। যা অনেক সময় সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ কারণে অনেকেই লাইসেন্স করতে আগ্রহ দেখায় না।
নগরীর লালবাগের জনতা স’মিলের মালিক নুরুজ্জামান জানান, ১৯৮০ সাল থেকে তিনি স’মিলের ব্যবসা করছেন। এখন পর্যন্ত লাইসেন্স নেননি। ২০১৪ সালে লাইসেন্স নিতে গেলে বন বিভাগ জানায় একসঙ্গে ২০-৩০ জন আবেদন না করলে লাইসেন্স দেয়া হবে না। আর একা লাইসেন্স নিতে হলে ৩০-৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। এ কারণে লাইসেন্স করা হয়নি।
রংপুর স’মিল মালিক সমিতির সভাপতি হারুন অর রশীদ জানান, বন বিভাগের লাইসেন্স পেতে ফরম এনেছেন। এছাড়া সহকারী কমিশনারের প্রত্যয়নপত্র ও ম্যাপের জন্য আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যয়নপত্র ও ম্যাপ না পাওয়ায় লাইসেন্স করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মতলুবুর রহমান বলেন, লাইসেন্স দিতে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। লাইসেন্স পেতে স’মিলকে অবশ্যই বন সম্পত্তির ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হতে হবে। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বাইরের মিলগুলো শর্ত পূরণ করছে না। তাই লাইসেন্স দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
/এসএ