রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

রংপুর অফিস:

রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর জুড়ে নামে মানুষের ঢল। হাতে শ্রদ্ধার ফুল আর কণ্ঠে বাঙালির চেতনার চিরঞ্জীব স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে নগর। ঘড়ির কাটা বারোটাতে পৌঁছানোর আগেই বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয় শহীদ মিনার চত্বর।

রাত বারোটা এক মিনিটে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে শুরু হয় শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা ও রংপুর সিটি করর্পোরেশনের মেযর মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।পরে সকল ভাষা শহীদ, ভাষা সৈনিক ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে শহীদ স্মরণে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

একে একে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর পরিষদ, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা ছাড়াও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি, জাসদ, বাসদসহ প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও রংপুর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, টিসিএ রংপুরসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনসহ সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফুলেল শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করেন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সহ সাধারণ মানুষ দেশের সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য সরকারকে আরো উদ্যোগী হবার আহ্বান জানান।

রংপুর সিটি করর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, বাংলা ভাষার ব্যবহার সর্বত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের যুব সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের ভাষার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে।

এসময় সম্মিলিত উদ্যোগ ও সরকারের কঠোর নির্দেশনা ছাড়া সব জায়গায় বাংলায় লেখা সাইন বোর্ড ব্যবহার নিশ্চিত করা কষ্টকর বলে জানান।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ১৯৫২ সালের এ দিনে মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবোধের যে উন্মেষ ঘটেছিল, মূলত তা থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নভিত রচিত হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলন অত্যন্ত বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। মুজিববর্ষের এ ক্ষণে সকল ভাষা সৈনিক ও শাহাদাত বরণকারী শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, বেসরকারি, স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সহ সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধ র্নিমিতকরণ, মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা এবং বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়।

রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

বেলা আড়াইটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শীর্ষক কবিতা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকেল সাড়ে চারটায় একই স্থানে আলোচনা সভা, ভাষা সৈনিকদের সংবর্ধনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রংপুর জেলা প্রশাসন।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply