দারিদ্রতা হার মানাতে পারেনি প্রমিলা ফুটবলারদের

স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):

প্রমিলা ফুটবলের গ্রাম হিসেবে পরিচিত রংপুর সদরের নয়াপুকুর হাট। সূর্য উদয়ের পর কিংবা পড়ন্ত বিকালে গায়ে রঙিন জার্সি পরে নেমে যায় খেলার মাঠে। হাতে তাদের ফুটবল। প্রতিনিয়ত চলে কঠিন অনুশীলন ফুটবল কন্যাদের। তাদের চেষ্টা ফুটবলের শৈল্পিক নান্দনিক রূপের খোঁজ। পরিচয়ে নারী হলেও নিজেদের মানুষ ভেবে এগিয়ে যেতে চায় ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে সামনের কাতারে। অবহেলা, দারিদ্রতা, বাঁকা চোখ কিছুই থামাতে পারেনি তাদের অদম্য প্রতিভাকে। তারা জানান,পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর খেলার সরঞ্জাম পর্যস্ত না থাকায় হতাশা বিরাজ করছে এই নারী ফুটবলারদের মাঝে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রংপুর মহানগরী থেকে প্রায় ১৭কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের পালিচড়ার নয়াপুকুরে এই ফুটবল কন্যাদের গ্রাম। ৩০ জন কিশোরী ফুটবল দলের অনেকেই ভালো খেলে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামও কুড়িয়েছে। জেলা সদরের নিভৃত পল্লী থেকে জাতীয় প্রমিলা ফুটবল দলসহ অনূর্ধ্ব ভিত্তিক দল ও বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন স্বপ্না, রত্মা, সুলতানা, রুনা, রুমি, বৃষ্টি, রিতা, সুমাইয়া ও শাপলাসহ অনেকেই। এদের মধ্যে নাছরিন আক্তার, মোছা. রুনা আক্তার ও শাপলা আক্তার অনূর্ধ্ব ১২ জাতীয় দলের খেলোয়াড় রয়েছেন।

তারা জানায়, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর খেলার সরঞ্জাম না থাকায় ক্ষোভ নারী ফুটবলারদের। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো বিশ্বের কাছে আরো সুনাম এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই নারী ফুটবল কন্যারা। অবহেলা, দারিদ্রতা, বাঁকা চোখ কিছুই থামাতে পারেনি তাদের এমনটাই বললেন এই ফুটবল কন্যাদের অবিভাবকরাও।

ফুটবল কন্যারা শুরু থেকেই অনেক সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে এই ক্ষুদে ফুটবলার কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন স্থানীয় প্রশিক্ষক এএফসি উত্তরবঙ্গ ফুটবল দলের প্রধান প্রশিক্ষক মো. মিলন মিয়া। জাতীয় অঙ্গনে ভালো খেলে রংপুরের নাম ছড়িয়ে দিয়েছেন। আলোকিত করেছেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও। এখন শুধু প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার। আর এমনটাই প্রত্যাশা রংপুরবাসীর।

রংপুরের জেলাপ্রশাসক আসিফ আহসান জানান, রংপুরের প্রমিলাও কিশোরী ফুটবল দলের অনেকেই ভালো খেলে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামও কুড়িয়েছে। জেলা সদরের নিভৃত পল্লী থেকে জাতীয় প্রমিলা ফুটবল দলসহ অনূর্ধ্ব ভিত্তিক দল ও বিভিন্ন ক্লাবে খেলছে। তাদের ফুটবল খেলার জন্য নির্দিষ্ট মাঠ,ফুটবল ও আর্থিক সহায়তা জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

এম২৪নিউজ/আখতার