
রংপুর অফিস:
রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নে ভিজিডির কার্ডে চাল নেন ইউপির চেয়ারম্যানের শ্বাশুড়ী। সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ২২৯ টি ভিজিডি কার্ডের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ হওয়ায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ইসরাত সাদিয়া সুমি জানান, আমার কাছে অভিযোগ করার ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান রব্বানীকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, মোছাঃ হাসমত আরা স্বামীর নাম দুল মিয়া তিনি সদ্যপুস্করিনী ইউনিন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানার চাচি শাশুড়ী।২২৯ নং ভিজিডির কার্ডে দুঃস্থদের চাল নেন তিনি।পাকা বাড়ি, জমিজমা, অর্থবিত্ত সবই আছে। তবুওনেন গরীবে জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডির চাল।বিষয়গুলো প্রকাশ হয়ে পড়ায় রংপুর সদরের সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে তোলপাড় শুরু হলে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সােহেল রানার নানা অনিয়মের চিত্র।
রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভিজিডি কমিটির সভাপতি ইসরাত সাদিয়া সুমি জানান, আমার কাছে জনগনের দায়েরকরা অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান রব্বানীকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।ওই কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের ভিজিডি চালের কার্ডধারীদের নাম তালিকা যাচই করে দেখা গেছে,সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সােহেল রানার চাচি শ্বাশুড়ী ২২৯ নং ভিজিডি চালের কার্ডে চারবার ত্রিশ কেজি করে চাল তুলে নিয়েছেন।৩৭৯ নং ভিজিডি চালের কার্ডধারী শিমু নামের এক মহিলা। তার স্বামী সেনা বাহিনীতে কর্মরত। ৩৭৪,৩৭৯ ও ৩৮০ নং ভিজিডি চালের কার্ডরধারী স্থানীয় এক হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক পরিবারের সদস্য। তারা সবাই সমার্থবান এবং আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল।
কয়েকজন দুঃস্থ অভিযােগ করে বলেন, হামারা সরকারী চাউল পাইনা। ধণীরা পায়। দোষ দেই সরকারোক। ওমরায় পাউক।হামরা অসহায় থাকি। বিষয়টি নিয়ে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে তােলপাড় শুরু হয়েছে।
সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন শাখার আওয়ামীলীগের সভাপতি মকছেদুর রহমান দুলু ব্যাপারী ওসাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর ইসলাম বিপ্লব বলেন, সরকারী বরাদ্দ নিয়ে সত্যিকার অর্থে কেউ স্বজন প্রীতি কিংবা অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে সরকারী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য,ভিজিডির সরকারী নীতিমালায় বলা হয়েছে, যে যারা পাঁচ শতকের উপরে জমির মালিক অথবা যাদের নামে পাঁচ শতকের বেশী জমি আছে তারা কোন ভাবেই দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী ভিজিডি চালের কার্ড পাওয়ার যোগ্য নয়।
এম২৪নিউজ/আখতার