
নিউজ ডেস্ক:
জোর করে বাল্যবিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে বাড়ি থেকে পালিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয় নেয় ১০ম শ্রেণির ছাত্রী শাহিনা আক্তার। মোবাইল ফোনে নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধে ইউএনও’র সহযোগিতা চান শাহিনা আক্তার। এ নিয়ে একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়ে চড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার সকালে ইউএনও সামিউল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে হাজির হয়ে বাবা-মায়ের মুচলেকা নিয়ে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালেন ওই স্কুলছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউপির উওর ধুবনী গ্রামে।
হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্রী ও উওর ধুবনী গ্রামের সাইরুদ্দিনের মেয়ে শাহিনা আক্তারকে শুক্রবার রাতে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরকরে বাল্যবিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন তার বাবা-মা। উপায় না পেয়ে শাহিনা বাড়ি থেকে পালিয়ে তার এক বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ওই বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে শুক্রবার রাতেই হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলমকে ফোন করে সহযোগিতা চান ওই ছাত্রী। তার কাছে তেমন সহযোগিতা না পেয়ে শনিবার রাতে হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিনকে ফোন করে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে সহযোগিতা কামনা করেন শাহিনা।
এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ফলে নড়ে চড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার সকালে ইউএনও সামিউল আমিন হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে শাহিনা আক্তারকে তার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন। পরে ইউএনও নিজ গাড়িতে করে শাহিনাকে নিয়ে তার বাড়িতে হাজির হন। এ সময় তার বাবা সাইরুদ্দিনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর জিম্মায় দেন।
হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, রাতে খবর পাওয়া মাত্র আমি ওই স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। সকালে মেয়েকে তার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বাবা মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে শাহিনাকে তাদের কাছে দিয়ে এসেছি। শাহিনার বাবা মা মুচলেকা দিয়েছেন ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না। ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার
