
নিউজ ডেস্ক:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দুই লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন ছামিদুল ইসলাম নামে এক যুবক। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রথম স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি ও তার পরিবার।
বুধবার সকালে ওই উপজেলার দক্ষিণ সিন্দুর্না এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাফরিন সুলতানা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। মারধরের ঘটনায় স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে জাফরিন সুলতানাকে বিয়ে করে ছামিদুল ইসলাম। সে সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর বিরুদ্ধে একাধীর নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ পান জাফরিন। ২০১৭ সালে রংপুরের তানজিনা আক্তার নামে এক তরুণী বিয়ের দাবিতে ছামিদুলের বাড়িতেও যান। সিন্দুর্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওই সময় বিষয়টির মীমাংসা করেন। এরপর শুরু হয় জাফরিন সুলতানার ওপর নির্যাতন।
ভুক্তভোগী জাফরিন সুলতানা জানান, বিসিএস-এর কোচিং করার জন্য তাকে বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা আনতে চাপ দেন ছামিদুল। টাকা দিতে না পারায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করেন ছামিদুল ও তার পরিবার। এতে জাফরিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রংপুরে পালিয়ে যান তিনি। এরপর জাফরিনের বাবা-মা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য বললেও হাজির হয়নি ছামিদুল ও তার পরিবার।
গত বছর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জাফরিন সুলতানা। ওই মামলায় ছামিদুল ও তার পরিবারে পাচ সদস্য কয়েকজন কারাভোগ করে জামিনে বের হন। চলতি মাসের ৪ তারিখ জাফরিন সুলতানার অনুমতি ছাড়া নিলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কাঠালী ইউনিয়নের উত্তর দেশীবাই গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসীকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে যান ছামিদুল ইসলাম।
ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ছামিদুল, জান্নাতুলসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে জাফরিন সুলতানাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে তাকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। ওই সময় জাফরিনের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে জাফরিন সুলতানা বাদী হয়ে স্বামী ছামিদুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসীসহ সাতজনের নামে মামলা করেন।
সিন্দুর্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়টি মীমাংসার জন্য ছামিদুল ও তার পরিবারকে বারবার ডাকা হয়েছে। কিন্তু তারা পাত্তাই দেয়নি। এছাড়া ছামিদুল রংপুরে অনেক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছে। ২০১৭ সালে এক মেয়ে বিয়ের দাবিতে ছামিদুলের বাড়িতে অনশন করেছিল। তাকে বুঝিয়ে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী নারী মামলা করেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার