
নিউজ ডেস্ক:
করোনা ভাইরাসের ব্যাপকতা আটকাতে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনিশ্চয়তায় ঝুঁকছে শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ হতে পারে করোনার রূপ। অসুস্থ পৃথিবীতে কবে আসবে সুস্থতা-তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। একদিকে আগামী দিনের অনিশ্চয়তা ও মহামারিতে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন অন্যদিকে আগে থেকে চলে আসা সেশনজট আরও তীব্র হওয়ার আশংকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোগছে তীব্র মানসিক চাপে।
একাদিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চিত ভবিষ্যত, দিনের পর দিন রুমে আটকে থাকা,বয়সের করণে বাবা মায়ের সাথে দূরত্ব ও মতবিরোধ তৈরি হওয়া, বন্ধুবান্ধবদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারা,শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার ফলে সেশনজটের দুশ্চিন্তা, ক্যম্পাসের ইনভারনমেন্টের সাথে বাসার পরিবেশের মিল না থাকা উন্মুক্ত মাঠ ও খোলা প্রান্তরে ঘুরতে ও খেলতে না পারা, সামাজিক দূরত্বের সাথে মনসিক চাপ বাড়া, টেলিভিশন ও পত্রিকার পাতায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর খবর দেখে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন তারা।
সম্প্রতি ওয়াল্ড ভিশনের বিশ্বের ১৩ টি দেশে চালানো এক গবেষণায় দেখা যায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ৯১ শতাংশ শিশু ও তরুণ মানসিক চাপ ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, সামাজিক দূরত্বের কারণে মানসিক চাপ এবং পরিবারে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ায় তারা হতাশায় ভুগছে।
বেরোবি উইমেন উইমেন পিস কেফের সভাপতি ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম মিথু জানান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে বাড়িতে খুব একটা আসা হত না। তাই করোনা ভাইরাসের কারণে ছুটি পেয়ে কিছুটা খুশি হয়েছিলাম পরিবারকে সময় দিতে পারবো ভেবে। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে আমি নিজে নিজেই উপলব্ধি করতে পারছি যে মানসিক ভাবে বিশাল পরিবর্তন এসেছে আমার মাঝে। সেটা পজিটিভ নয়।
শুরুর দিকে বই পড়ে সময় কাটানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটাও কেমন যেন এক ঘেয়েমি লাগে! মনে হচ্ছে আমাকে যেন আমার শিকড় থেকে উপরে ফেলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাম্পাস, ক্লাস সব কিছু থেকে দূরে থেকে অনেকদিনের গড়ে ওঠা অভ্যাসটা এই বন্দীশালায় এসে মানসিক চাপের কারণ হচ্ছে।কোভিড ১৯ এর কারণে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। ফলে অনাগত ভবিষ্যতের চিন্তা আর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।পারিবারিক ভাবে বন্ধন দৃঢ় হলেও মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে অসম্ভব রকমের। ঘরে বন্দী থাকতে থাকতে মানসিক ভাবে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে আলিংগন করছি যেন। যদি দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন না আসে তবে দেশের ভবিষ্যৎ গিয়ে পড়বে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একদল তরুণদের হাতে যেটা দেশের জন্য ভয়ংকর হবে বলে আমার মনে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুজ্জাতুল ইসলাম আলীফ বলেন, সব বদলে গেছে বলতে হয়। ঘুম সময়মতো হয় না। খাবারও ঠিকমতো না। কেমন যেন অদ্ভুত সময় কাটছে! মাঝেমধ্যে মনে হয় আরও ভয়ংকর দিন অপেক্ষায় আছে আমাদের জন্য। কেমন ব্যস্ত দিনগুলো, রাতগুলো অলসতায় ভরে গেছে আজ। দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে রোজ! সময়গুলো হতাশার। প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে খুব ক্লান্ত লাগছে। এ সময় ক্যম্পাসে ফিরতে পারলে হয়তো এতটা অসহায় মনে হতো না।আমরা যদি স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমাদের দৈনন্দিন কাজে পুনরায় ফিরে আসতে পারি তাহলে মানষিক চাপও কমে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক ও গণযোগাগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. নজরুল ইসলাম বলেন ব্যক্তিগতভাবে যার যার সঙ্গে কথা হয়েছে তাদেরকে আমি করোনা ছুটিকালীন ঘরে বসে অনলাইনে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ দিয়েছি। আর যাদের অনলাইন ফেসিলিটি নেই তাদেরকে এসময় প্রচুর বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছি। এতে মানষিক চাপও কমে আসবে আবার ভবিষ্যতে যখন সবকিছু স্বভাবিক হবে তখন সেই লব্ধ দক্ষতা ও জ্ঞান তারা কাজে লাগাতে পারবে। এভাবেই আমাদেরকে এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।
সূত্র: প্রজন্মকন্ঠ।