ফেসবুকে সমালোচনা, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত সরস্বতী পূজায় উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর উপস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা করায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগে নাম উল্লেখ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট এতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে তুমুল সমালোচনা।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তারুজ্জামান প্রধান।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সরস্বতী পূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। যথারীতি এবছরও (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সরস্বতী পূজা প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে পূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পূজা প্রাঙ্গণে উপাচার্যের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নেতিবাচক বিবৃতি এবং মন্তব্য করায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়েছে। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

২৫ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এই অভিযোগের সাথে কোন মন্তব্যকারীর নাম উল্লেখ না করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিত আহমেদ এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদের দেয়া স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করেন।

জানা যায়, ১৩০০ দিনের মধ্যে ১১০০ দিন ক্যাম্পাসে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। সেদিন সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হয়ে সরস্বতী পূজার উদ্বোধন করেন তিনি। হঠাৎ ক্যাম্পাসে আসায় অনেকেই ফেসবুকে সমালোচনা করে পোস্ট দেন এবং মন্তব্য করেন। তার মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিত আহমেদ একজন।

তার স্ট্যাটাসে কোন ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে প্রশ্ন রেখে তিনি লিখেন, “পূজা উদযাপন কমিটির শিক্ষক ও ছাত্ররা আপনারা একজন দুর্নীতিবাজকে যে পৃষ্ঠপোষক বানালেন, এখন আপনারা কি বেরোবির ক্ষতি করলেন না?”

আরেকটি স্ট্যাটাসে প্রশ্ন রেখে লিখেন, “পূজা পার্বণের জন্য হিন্দুধর্মের প্রিয় শিক্ষার্থীদের একটি পবিত্র আয়োজন ছিল ক্যাম্পাসে। একটি পবিত্র জায়গায় কেন একজন অপবিত্র ব্যক্তিকে স্থান দেয়া হল? একটি পবিত্র জায়গায় একজন দুর্নীতিবাজ অপবিত্র ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দিয়ে পুরা ধর্মীয় পবিত্র বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল নয় কি?।”

তবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যখন দেশ ও জাতির সামনে প্রমানিত অপরাধীর কাতারে। ঠিক সেই মুহুর্তে একজন পলায়নকারী ও আত্নগোপনকারী অপরাধীকে বিশ্ববিদ্যালের অতিথি হিসেবে নিমন্ত্রিত করা কতটা যৌক্তিক। পূজো কমিটির সদস্যের কাছে প্রশ্ন এই দুর্নীতিবাজ, আইন অমান্যকারী ও পলায়নকারী ভিসি আপনাদের এমন উচ্চ সম্মানজনক অনুষ্ঠানে কিভাবে অতিথি হয়ে আসেন?।”

অভিযোগের বিষয়ে বায়েজিদ আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যায় এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা সব সময় কথা বলি। গত ১৬ তারিখে পূজা কমিটি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেই। সেখানে আমি অপবিত্র ব্যক্তির কাকে বলেছি সেটা উল্লেখ করিনি। অপবিত্র ব্যক্তি যে কেউ হতে পারে সেখানে। কিন্ত আজ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে জানতে পারলাম আমার দেয়া স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এই অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।”

আরেক শিক্ষার্থী তানভির বলেন, “ভিসির বিরুদ্ধে ফেসবুকে সমালোচনার অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নোংরামী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রমানিত দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় নিন্দাসূচক বাক্য লিখেছি যার অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধান আমাকে দিয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার নিয়ে কাজ করি। আমার লক্ষ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। এতে আমি এতটুকু পিছপা হবো না। আমি তাদের এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিব।”

তাজহাট মেট্টোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তারুজ্জামান প্রধান বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিঠি পেয়েছি। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত পূজা অনুষ্ঠানে উপাচার্যের উপস্থিতি নিয়ে কতিপয় ব্যক্তি বাজে মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেয়। এসব স্ট্যাটাস আমাদের পূজা উদযাপন কমিটির চোখে পড়লে আমরা মিটিং করে রেজিস্ট্রারকে লিখিত দেয়।তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের মোবাইলে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়। উপাচার্যকে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উত্তরবাংলা

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply