
নিউজ ডেস্ক:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনি পারভীনকে অনিয়মের মাধ্যমে ভিসির একক সিদ্ধান্তে পদন্নোতি দিতে পদন্নোতি বোর্ড সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী যে শিক্ষকের পদন্নোতি বোর্ড হবে তাকে সেই বোর্ডে উপস্থিত থাকা যাবে না কিন্তু নিজের পদন্নোতিতে বোর্ডে জনি পারভিন নিজে উপস্থিত তো ছিলেনই এবং হয়েছেন সেই বোর্ডের সদস্যও।
এদিকে প্লানিং কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্লানিং কমিটিতে যে শিক্ষককে সদস্য বানানো হয়েছে সে শিক্ষক জানেনই না পদন্নোতি বোর্ডের বিষয়ে। এই অনিয়মের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিজেই দায়ী বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। এদিকে জনি পারভিনের সহকারী অধ্যাপক পদে স্থায়ীকরণ না করেই ভিসি নিজের মতো করে তৈরি করা প্ল্যানিং করে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে নিজের একক সিদ্ধান্তে তার সুপারিশের মাধ্যমে মাত্র একদিনের নোটিশে ওই শিক্ষকের সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সাক্ষাৎকার বোর্ড সম্পন্ন করেন। এতে ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।
সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোরশেদ হোসেনের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই তড়িঘড়ি করে ছুটিতে থাকা জনি পারভীনকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেন ভিসি। নিয়ম অনুযায়ী ছুটি থেকে ফিরে বিভাগে যোগদান করানোর ক্ষেত্রে সুপারভাইজার কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোন অনুমতি প্রয়োজন হলেও ভিসির একক সিদ্ধান্তে বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
এদিকে বিভাগের শিক্ষকের পদন্নোতির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে জ্যেষ্ঠতা অনুসারে তিনজন শিক্ষকের সমন্বয়েপ্ল্যানিং কমিটি গঠনের কথা থাকলেও জনি পারভীন সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর নিয়ম ভঙ্গ করে প্ল্যানিং কমিটি তৈরি করেন যেখানে সদস্য বানানোর কথা জৈষ্ঠতা অনুযায়ী বিভাগের একমাত্র প্রফেসর ড. মোরশেদ সহকারী অধ্যাপক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমকে। কিন্তু তা না করে তিনি ড. মোরশেদ এবং খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমের জায়গায় তিনি ভিসিকে সদস্য করেছেন। এদিকে প্ল্যানিং কমিটির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন লাগে, সেটিও মানা হয়নি এখানে।
তবে ২০২০ সালে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জনি পারভিন ভিসিকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগীতা করার পুরস্কার হিসেবে এই পদন্নোতি বলে শিক্ষকদের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
এ প্লানিং এর বিষয়ে আমি কিছুই জানতেন না জানিয়ে বিভাগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও জ্যৈষ্ঠ প্রফেসর ড. মোরশেদ হোসেন আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, ভিসি তার একক সিদ্ধান্তে তাকে পদন্নোতি দিয়েছেন যা আইনের দৃষ্টিতে এটি স¤পূর্ণ জালিয়াতি এবং প্রতারণা।
এই পদন্নোতিকে নিয়মবহির্ভুত উল্লেখ করে অর্থনীতি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম নিরব আমাদের প্রতিদিনকে বলেন, গত ৬ বছর ধরে আমার বিভাগের জন শিক্ষকের সমন্বয়ে প্লানিগ বোর্ড গঠিত হয়ে আসছে কিন্তু জনি পারভিন বিভাগীয় প্রধান হওয়ার পর তিনি বিভাগের শিক্ষকদের ডিঙ্গিয়ে ভিসিকে সদস্য বানিয়ে নিজে অনিয়ম করে পদোন্নতি নিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক জনি পারভিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, কিসের রিপোর্টার, অমুকের রিপোর্টার আর তমুকের রিপোর্টার? না, এ বিষয়ে আমি আপনার কোন কথা শুনতে চাই না। এসব বিষয়ে জানার ইচ্ছা হলে আপনি প্রশাসনকে ফোন করেন, আমাকে ফোন করছেন কেন?
এছাড়াও তিনি বলেন, আপনাকে তথ্য দেওয়াটা আমার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না আপনার জানারও এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
একদিনের মধ্যে স্থায়ীকরণের বোর্ড এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়াই জনি পারভীনকে কীভাবে আবেদনের অনুমতি দেয়া হলো এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে পরপর দুই দিন কথা বলতে তার দফতরে গেলে বিষয়টি সম্বন্ধে জানা যায়নি। কর্মচারীরা জানান, তারা দুজনেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। একাধিকবার ফোন দিলে ফোন কেটে দেন।
সূত্র: আমাদের প্রতিদিন।