
নিউজ ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক বলেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের কর্মকাণ্ড কোনো আন্দোলনের মধ্যে পড়েনা। এটি একটি নৈরাজ্যে এবং উস্কানিমূলক আন্দোলন। আমরা জানি, এ পরিবহন সেক্টরকে কারা উস্কিয়ে দেয়। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য, সরকারকে একটি মেসেজ দেওয়ার জন্য কুচক্রীমহল শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। সরকার যেন তাদের স্বার্থ রক্ষা করে।’
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের যদি স্বার্থে আঘাত লাগে তারা আন্দোলন করতে পারে কিন্তু সেখানে কেন সাধারণ মানুষের মুখে কালি মেখে দিতে হবে। কেন গাড়িতে কালি মেখে দিতে হবে। কেন গাড়ির ওপর ভাঙচুর করতে হবে। এটি কোন আন্দোলন নয় এটি একটি নৈরাজ্য ও উস্কানিমূলক আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাটে যেসব যানবাহন চলে তার ৫০ শতাংশ ফিটনেস বিহীন, ৪০ শতাংশ লাইসেন্সবিহীন। এর ফলে নতুন আইনে তারা যখন বোঝা শুরু করলো যে তাদের ব্যবসায় লোকসান হবে তখন তারা এ আন্দোলনের সৃষ্টি করেছে।
পরিবহন সম্পাদক শামস-ঈ নোমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ওপর হামলা করা মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের ওপর হামলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং যারা এই হামলা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, এই হামলায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ অতিশীঘ্রই গ্রহণ করুন।
ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত দাবি অব্যাহত রাখবে জানিয়ে ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, বাসে হামলা মানে বাংলাদেশের সৃষ্টির পিছনে হামলা। আজকে আমরা আমাদের শান্তিপ্রিয় মানববন্ধনের মাধ্যমে ওই সকল শ্রমিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই এ ধরনের ঘটনার স্পর্ধা আর কখনো যেন না হয়। যদি আমরা এই ন্যায় বিচার না পাই আমরা রাজপথে নামবো। আমরা আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীদের গায়ে দাগ লাগতে দিব না।
এদিকে মানববন্ধনের পর ডাকসু নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি জানিয়েছেন। এ সময় উপাচার্য হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার (২০ নভেম্বর) সকালে যাত্রীবাহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঈশা খাঁ ও ক্ষণিকা বাস আসার সময়ে টঙ্গীতে ক্ষণিকা বাস ও সাইনবোর্ডে ঈশা খাঁ বাসে হামলা করে শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা ঈশা খাঁ ও ক্ষণিকা বাসে ভাঙচুর করে করে এবং ঈশা খাঁ বাসের ড্রাইভারকে বাস থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।