অভিযোগের মুখোমুখি সু চি

অনলাইন ডেস্ক:

গত সোমবার সামরিক অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত বেসামরিক নেতা অং সান সু চির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিয়ানমার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুচিকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। আমদানি ও রফতানি আইন লঙ্ঘন ও যোগাযোগে অবৈধ ডিভাইস ব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে মিয়ানমার পুলিশ।

তবে মঙ্গলবার ( ২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের মধ্যে তাকে শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছেন সুচির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটির লিগ (এনএলডি)-এর প্রেস কর্মকর্তা কিয়াই টোয়ে। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনলডি-এর এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, রাজধানী নেপিদোর সরকারি বাসভবনে তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে।

করোনা মহামারী চলাকালীন সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির পদচ্যুত রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে রাষ্ট্রপতি বা সু চি-র কথা কেউই শুনেনি। সশস্ত্র বাহিনী প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে এই অভ্যুত্থানটি ঘটে।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের তৃতীয় দিনে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। দেশটির বড় শহরগুলোর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চিকিৎসক, ফিজিশিয়ানসহ সেবাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।সেনা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অনেকেই তাদের চাকরি ছেড়েছেন। অনেক চিকিৎসক রোগীর কথা বিবেচনায় নিয়ে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তারা জান্তা সরকারের নতুন মন্ত্রীসভাকে স্বীকৃতি দেবে না বলে জানিয়েছেন।

অনলাইন কিংবা অফলাইনে এই কর্মসূচীর সাথে একাত্মতা জানিয়েছে ইয়াঙ্গনের বাসিন্দারাও। তারা নিজেদের প্রোফাইল পিকচার বদলে লাল করেছে কিংবা তিন আঙুল দিয়ে স্যালুট দিয়েছে। এই কর্মসূচীটি মূলত সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্কিত ব্যবসা এবং সেবা পরিহার কর্মসূচী।

গত বছরের ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বড় জয় পায়। সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউএসডিপি ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। দাবি মানা না হলে সেনাবাহিনী ফের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেয় তারা। বিবিসি

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply