করোনায় মৃত্যুপুরী খুলনা

অনলাইন ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খুলনায়। যতই দিন যাচ্ছে- আক্রান্ত ও লাশের পাশাপাশি বাড়ছে খালি অক্সিজেন সিলিন্ডারের স্তূপ। মহামারি করোনা যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ বিভাগকে।

প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে বিভাগের ১০টি জেলায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু। পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না হাসপাতালগুলো। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ।

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে খুলনা বিভাগের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাই বিভাগের ১০টি জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার ২০১ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যান ২৭ জন। ৩ জুলাই এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৩৯ ও ৩২। ৪ জুলাই এক হাজার ৩০৪ ও ৪৬ জন। যা ৫ জুলাই আরো বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৪৭০ ও ৫১ জনে। ৬ জুলাই এক হাজার ৩০০ ও ৪০ জন। ৭ জুলাই সব রেকর্ড ভেঙে শনাক্ত হয় এক হাজার ৯০০ এবং মারা যায় ৬০ জন। ৮ জুলাই একটু কমে যথাক্রমে এক হাজার ৭৩২ ও ৫১ জন। শুক্রবার (৯ জুলাই) বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৬৫৬ জনের।

১০টি জেলার মধ্যে খুলনার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। এরপর কুষ্টিয়া ও যশোরে বেশি লোক আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে। সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের অবস্থাও ভয়াবহ। প্রতিদিন মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে অন্য জেলাগুলো থেকেও।

এ হিসেবের বাইরেও অনেকে উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন। এ সংখ্যা শহরের তুলনায় গ্রামেই বেশি। স্বাস্থ্যবিধিকে উপেক্ষা করার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মানাই সংক্রমণ বৃদ্ধির বড় কারণ। এছাড়া দেরি করে পরীক্ষা করা এবং হাসপাতাল বা বাসা-বাড়িতে করোনা রোগীর সঙ্গে দেখা করা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংক্রমণ বহুগুণ বাড়ছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা বলেন, যেসব রোগীর ডায়বেটিস, হার্টের সমস্যা রয়েছে; লিভারের রোগে আক্রান্ত ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত; অ্যাজমা, হাইপারটেনশন, প্রেশার রয়েছে তারা করোনা আক্রান্ত হলেই অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়েও তাদের বাঁচিয়ে রাখতে পারছেন না। এছাড়া দেখা গেছে বয়স্ক রোগীরা বেশি মারা যাচ্ছেন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই হাসপাতালে আসছেন শেষ মুহূর্তে। ততক্ষণে তাদের শারীরিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ছে। বেশিরভাগ রোগীর অক্সিজেন লেভেল নেমে যাচ্ছে ৮০-র নিচে। এ সমস্ত রোগীই মৃত্যুর তালিকা বাড়াচ্ছেন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, যেসব রোগী গ্রাম থেকে এসে ভর্তি হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকেন। দেখা যায় তাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮০-র নিচে। প্রথম থেকে তারা যথাযথ চিকিৎসা নেননি অথবা করোনার পরীক্ষা করিয়েছেন অনেক দেরিতে। ফলে সংক্রমণে দেহের যে ক্ষতি হওয়ার সেটা আগেই হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষা বা ট্রিটমেন্ট গোড়াতেই শুরু হলে হয়তো তাদের বাঁচানো সম্ভব হতো।

উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। সংক্রমণের শুরু থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিভাগের ১০টি জেলায় মোট শনাক্ত ৬৯ হাজার ১৮৭ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ৪৯৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply