‘ক্যাম্পাসে মেঘলাকে ভিডিও কলে থাকতে বাধ্য করতো স্বামী’

অনলাইন ডেস্ক:

করোনার মধ্যে বিয়ে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ইলমা চৌধুরী মেঘলার। এরপর দুইদিন ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। একদিন মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে। আরেকদিন আসেন ফরম ফিল-আপ করতে। দুইদিনই পুরো সময় জুড়ে স্বামী ইফতেখার শামীমের সঙ্গে ভিডিও কলে থাকতে হয়েছে তাকে। এমনটি জানিয়েছেন মেঘলার সহপাঠীরা৷

এদিকে মেঘলার মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার স্বামী ইফতেখার শামীমকে আটক করেছে পুলিশ। বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আজম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মেঘলার সহপাঠী আশিকুর রহমান জানান, লকডাউনের মধ্যে মেঘলার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর সে আর ক্যাম্পাসে আসেনি। কয়েকদিন আগে একটা ইম্প্রুভ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিল। সেদিন তার সঙ্গে বাসার কাজের মেয়েকে পাঠানো হয়। তখন আমাদের কিছু বলতে চাইছিল। কিন্তু পুরো সময় তাকে ভিডিও কলে থাকতে হয়েছিল। ইলমা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে- তা তার স্বামী পর্যবেক্ষণ করছিলো।

তার সহপাঠী নুসরাত তিথি জানান, তার স্বামীর সঙ্গে একটু ঝামেলা চলছিল৷ করোনার মধ্যে বিয়ে হওয়ার পর মেঘলা ক্যাম্পাসে আসেনি। একদিন ফরম ফিলআপ করতে এসেছিলো। সেদিন ভিডিও কলে থাকতে হয়েছে তাকে। মেঘলাকে তার মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতো না।

মেঘলার মা সিমথি চৌধুরী জানান, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, এটা হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নই।  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

আজ বিকেল ৪টায় গুরুতর আহত অবস্থায় ইলমা চৌধুরী মেঘলাকে তার স্বামী রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে সেখানকার ডাক্তার মেঘলাকে মৃত ঘোষণা করেন। সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply