
অনলাইন ডেস্ক:
গাইবান্ধায় অপহৃত ব্যবসায়ী হাসান আলীকে উদ্ধারের পর দাদন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা হচ্ছেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মজিবুর রহমান এবং এসআই মোশারফ হোসেন। এ নিয়ে গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের গাইবান্ধার এসপি মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এই আদেশ দেন। এ ছাড়া এই ঘটনায় কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না মর্মে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. মাহফুজার রহমানকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে এসপি বলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ব্যবসায়ী হাসান আলী নিহতের ঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই ওই দুই কর্মকর্তাকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এদিকে নিহত হাসান আলীকে দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার হাতে তুলে দেয়ার ঘটনা তদন্তে ঘটনার দিন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ।
কমিটির কর্মকর্তারা হচ্ছেন, আহবায়ক গাইবান্ধার অ্যাডিশনাল এসপি (অপরাধ ও প্রশাসন) রাহাত গাওহারী, সদস্য গাইবান্ধার অ্যাডিশনাল এসপি (সদর) আবু খায়ের ও পুলিশ পরিদর্শক আবদুল লতিফ মিয়া। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এসপি।
গাইবান্ধা জেলা শহরের স্টেশন রোডে আফজাল সুজ নামে নিহত হাসান আলীর জুতার দোকান রয়েছে। মাসুদ রানা একজন দাদন ব্যবসায়ী। ব্যবসা চলাকালে মাসুদ রানার কাছে দেড় লাখ টাকা দাদন নেন ব্যবসায়ী হাসান আলী। এই টাকা সুদ আসলে বর্তমানে ১৯ লাখে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন মাসুদ রানা।
সম্প্রতি মাসুদ রানা সুদের টাকার জন্য হাসান আলীকে চাপ দেন। এক পর্যায়ে গত ৫ মার্চ সকালে লালমনিরহাটের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে হাসানকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে আসেন মাসুদ রানা। তিনি তাকে গাইবান্ধা শহরের খানকা শরীফ সংলগ্ন নারায়নপুর এলাকায় নিজ বাসায় একমাস ৬ দিন আটকে রাখেন।
এরপর টাকা নিয়ে হাসানের সঙ্গে মাসুদ রানার তর্কবিতর্ক হয়। টাকার জন্য তিনি হাসানকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং নানা ধরণের হুমকি দেন। গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় নিহতের স্ত্রী বিথী বেগম স্বামীকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসান আলীকে সদর থানায় নিয়ে আসেন সদর থানার ওসি (তদন্ত) মজিবুর রহমান ও এসআই মোশারফ হোসেন।
দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার উপস্থিতিতে থানায় শালিসের নামে হাসান আলীর কাছ থেকে সাদা কাগজে ও ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় তারা। এছাড়া হাসান আলীর স্ত্রীকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেয়। একইদিন রাতে পুলিশ হাসান আলীকে মাসুদ রানার জিম্মায় দেয়। এরপর মাসুদ রানা একমাস আটকিয়ে রেখে হাসানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।
১০ এপ্রিল সকালে মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসান আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে হাসান আলী মোবাইল ফোনে তার স্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকটি ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। সেই বার্তায় অপহরণ ও নির্যাতনের কথাসহ তার মৃত্যুর জন্য মাসুদ রানাসহ আরো দুই ব্যবসায়ী শহরের স্টেশন রোডের জুতা ব্যবসায়ী রুমেল হক ও খলিলুর রহমান ওরফে বাবু মিয়ার নাম উল্লেখ করেন। ঘটনার দিন অভিযুক্ত মাসুদ রানাকে আটক করে পুলিশ।
এ নিয়ে নিহতের স্ত্রী বিথী বেগম সদর থানায় মাসুদ রানা, রুমেল হক ও খলিলুর রহমানকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত হাসান আলীর স্ত্রী বিথী বেগম অভিযোগ করেন, শালিশ বৈঠকে আমার কাছে পুরো টাকা ফেরত ও স্টাম্পে সই চান মাসুদ রানা। এতে অস্বীকৃতি জানালে মীমাংসা হয় নি। তখন পুলিশ আমার স্বামীকে মাসুদ রানার হাতে তুলে দেন। তারপর থেকে আমার স্বামী মাসুদ রানার বাসায় ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, টাকা নিয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে মাসুদ রানার তর্কবিতর্ক হয়। টাকার জন্য তিনি আমার স্বামীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং নানা ধরণের হুমকি দেন। এসব নির্যাতনের কথা মোবাইল ফোনে জানতে পেরে থানায় অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার স্বামীকে উদ্ধার করে দেয়নি। আমার কাছেও স্বামীকে ফেরত দেয়নি। উল্টো তাকে মাসুদ রানার কাছে দেয়া হয়। নির্যাতনের কারণে স্বামী মারা গেছে। তারপর স্বামীকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার