
নিউজ ডেস্ক:
শিক্ষার্থী-বাস শ্রমিক দ্বন্দ্বের কারণে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-রংপুর রুটে টানা ১১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী বাস চলাচল। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।
জানা গেছে, বাসে অর্ধেক ভাড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের জের ধরে গত ১৪ মার্চ থেকে ফুলবাড়ী-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস শ্রমিক-মালিকরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) ফুলবাড়ী পৌর শহরের রংপুর বাসস্টান্ডে গিয়ে দেখা যায়, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় অটো রিক্সায় চড়ে রংপুর-ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে সাধারন যাত্রীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও সময়মতো গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারছেন না তারা।
শিক্ষার্থী সোহেল ওয়াহিদ জিম বলেন, সে ভর্তি পরীক্ষার জন্য রংপুরে কোচিং করছে। বাস বন্ধ থাকায় তাকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটো রিক্সা করে যেতে হচ্ছে। বিরামপুর থেকে আসা অপর শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, সে রংপুর কারমাইকেল কলেজে ভর্তি ফরম জমা দিতে যাচ্ছে। এসে দেখেন বাস বন্ধ। তাই অটো রিক্সায় যেতে হচ্ছে। ভর্তির ফর্ম জমা দেয়ার শেষ দিন আজ, সময়মত পৌছাতে না পারলে চরম সমস্যায় পড়তে হবে। একই কথা বলেন শিক্ষার্থী তানজিন।
এদিকে হোসেন আলী ও শাহের বানু নামে দুই যাত্রী চিকিৎসার জন্য রংপুর যাওয়ার জন্য এসেছেন, বাস বন্ধ থাকায় তারাও সমস্যায় পড়েছেন।
এদিকে দির্ঘ ১১ দিন বাসচলাচল বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাসের শ্রমিকরা। তারা বলছেন, বাজারে সব দ্রব্যের দাম বেশি। অপরদিকে গত ১১ দিন থেকে তাদের আয়ের পথ বন্ধ, এতে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।
মধ্যপাড়া বাজারের বাসীন্দারা জানান, গত ১৩ মার্চ ফুলবাড়ী কলেজ থেকে চারজন শিক্ষার্থী বাস যোগে বাড়ী ফেরার পথে (মধ্যপাড়ায় যাওয়ার পথে) বাসে অর্ধেক ভাড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে বাসের হেলপার-কন্ডাক্টরদের সাথে ওই শিক্ষার্থীদের বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। বাসের হেলপারেরা শিক্ষার্থীদের মারধর করে মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে গেলে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ এলাকাবাসীরা মধ্যপাড়া বাজারে সড়ক অবরোধ করে ফুলবাড়ী-রংপুর সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এঘটনায় ওইদিন সন্ধায় হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুল ইসলাম সোহাগের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে বাস শ্রমিকদের আপোষ হলে অভিভাবকগণ রাস্তা ছেড়ে দেয়। এরপর ওই দিন বাস চলাচল শুরু হলেও পরের দিন ১৪ মার্চ থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় বাস শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা বলছেন, ফুলবাড়ী-রংপুর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে চলাচলকারী মধ্যপাড়া পাথর খনি এলাকার শিক্ষার্থীরা অর্ধেক ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করলেও তারা সীট নিয়ে বাসের হেলপার-কন্ডাক্টরদের সাথে র্দ্ব্যুবহার করে। এর প্রতিবাদ করায় মধ্যপাড়া বাজারের স্থানীয় বাসীন্দারা বাস শ্রমিকদের উপর হামলা চালায়। এরই প্রতিবাদে তারা বাস চলাচল চন্ধ করে দিয়েছেন।
অপরদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, আর্ধেক ভাড়া দেয়ায় প্রতিদিনই বাসের হেলপার-কন্ডাক্টরদের শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে বাস শ্রমিকরা।
এবিষয়ে মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ফুলবাড়ী শাখার সাধারন সম্পাদক এটিএম মাহবুবুর রহমান বুলবুল বলেন, ছাত্রদের অভিভাবকরা শ্রমিকদের উপর হামলা করে ও তাদের অনৈতিক দাবী মানতে হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাসের শ্রমিকদের নিকট জোর পূর্বক মুচলেকা নেয়ায় তারা ক্ষোভে বাসচলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
এদিকে হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন ছাত্র-অভিভাবক ও শ্রমিকদের মাঝে একটি আপোষ রফা করা হয়েছে এবং শ্রমিকরা সেই সময় আপোষ রফা মেনে নিলেও, তাদের নেতারা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের প্রতিদিন
এম২৪নিউজ/আখতার