বাঁধ ভেঙে ৩০ হাজার লোকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অনলাইন ডেস্ক:

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলার প্রটেকশন ওয়াপদা বাঁধটি ভেঙে দিয়েছে কে বা কারা। ফলে হাজার হাজার লোক এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় পড়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার পূর্বধনিরাম এলাকার স্লুইস গেটের একটু পশ্চিমে ছাটকুঠি এলাকায় কে বা কারা সোমবার গভীর রাতে ওয়াপদা বাঁধটি ভেঙে দেয়। নিমিষেই প্রায় ২০০ হাত ওয়াপদা বাঁধটি ভেঙে গিয়ে গভীর গর্তে পরিণত হয়। পরের দিন এলাকার লোকজন এসে দেখেন প্রচণ্ড বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে সেখান দিয়ে।

এরই মধ্যে নুর মোহাম্মদের বসতবাড়ি ভেঙে গেছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে সিরাজুল, বাবলু, বজলে ও ফজলের বসতবাড়ি। ভেঙে যাওয়া ওয়াপদা বাঁধের মধ্যস্থলে দাঁড়িয়ে আছে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছাটকুঠি সেতুটি। পূর্ব ধনিরাম ও পশ্চিম ধনিরাম এখন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে ওই এলাকার বাঘ খাওয়ার চর, পূর্ব ধনিরাম আবাসন প্রকল্প, গেটের বাজার, সাহেব বাজার, ব্যাপারিটারী, ঘাটিয়ালটারী, ঘোঘারকুঠি, ছাটকুটি ও হাজির বাজারের প্রায় ৩০ হাজার লোক ওয়াপদা বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় পড়েছেন।

স্থানীয় হারুন অর রশিদ হারুনসহ অনেকে জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বাঁধের উজানে পানি ভরাট হয়ে উঠে। ফলে প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে কিন্তু পাশেই স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিয়মিতভাবে নিষ্কাশন হলেও কেন বাঁধটি ভেঙে দেয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, যারা এ কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. উজির আলী জানান, ওয়াপদা বাঁধটির ওই জায়গায় একটু ভাঙা ছিল। কয়েক দিনের ব্যাপক বৃষ্টির কারণে সোমবার রাতে বাঁধটি ভেঙে যায়। দ্রুত মেরামতের আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয় বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. খয়বর আলী জানান, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা বাঁধটি ভেঙে দিয়েছে তা আমার জানা নাই। তবে এটা অন্যায় হয়েছে। লোকজন চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকায় অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। পরে কথা বলবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তৌহিদুর রহমান জানান, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সুত্র: যুগান্তর অনলাইন।

এম২৪নিউজ/এসএ