
অনলাইন ডেস্ক:
টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে গত দুইদিনে কক্সবাজার জেলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ১০ লাখ মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৫৪ মিলিমিটার। বাকখালী ও মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, ঈদগাঁও ও টেকনাফ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজার শহরতলীর বাজারঘাটা, কলাতলী, চরপাড়া, কাঙালি পাড়া, নাজিরারটেক, খুরুস্কুল, চৌফলদন্ডী, পোকখালী। মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী, শাপলাপুর, বড় মহেশখালীর, হোয়ানক ও কালারমারছড়ার প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মাছের ঘের, পান বরজ, ধান ও সবজিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার ভোরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচজন ও মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। রামুর কচ্চপিয়া ইউনিয়নের নতুন তিতারপাড়া গ্রামে বৃষ্টির পানিতে উঠানে খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের ঈদগাঁও খালে ঢলের পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে তিন যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। এর আগে, মঙ্গলবার উখিয়ায় পানিতে ডুবে এক শিশু ও পাহাড় ধসে পাঁচ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ১২ জন। এছাড়া মহেশখালীতে একজন নিহত হয়েছেন।
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ ধরে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে টেকনাফে। বুধবার ভোরে হ্নীলা ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়ায় ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারে পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা মাটি খু্ড়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকজন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিপাত বুধবারও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলসমূহে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ভারি বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জানান, ভারি বর্ষণে কোথায় কী ক্ষতি হচ্ছে তা খোঁজ নেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। পাহাড় কাটা রোধে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলছে। পাহাড় ধস নিয়ে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার