পুলিশের প্রতি এতো ক্ষোভ কেন, সব পুলিশ কি অপরাধী?

বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের সেবক রাষ্ট্রের কর্মচারী। আইনশৃংখলা রক্ষায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালনকারী একটি বাহিনী। হ্যাঁ পুলিশের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ যেমন আছে তেমনি ভালো কাজেরও অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে। তবে পুলিশের প্রতি কেন এতো আক্রোশ? কেন এতো ক্ষোভ?

গত কয়েকদিন পুলিশ কর্মবিরতিতে থাকায় কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে শৃংখলা ব্যবস্থা। একবারও কি ভেবে দেখেছেন? দেখুন বাংলাদেশের গণমাধ্যম শতভাগ নিরপেক্ষ হতে পেরেছে কি? আমরা কি সব বিষয় সংবাদমাধ্যমে পাচ্ছি? গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে নিরপেক্ষ। কিন্তু কতটো নিরপেক্ষ হতে পেরেছে? হ্যা এটা মানতেই হবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল যৌক্তিক। শিক্ষার্থীদের সেই দাবির সাথে একগ্রতা প্রকাশ করে সাধারণ জনগণও সমর্থন দিয়েছে। ফলে আন্দোলন সফল হয়ে বাংলাদেশে এক নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি হয়েছে। পতন হয়েছে আওয়ামীলীগ সরকারের। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে শেখ হাসিনা।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এর মৃত্যু শুধু বাংলাদেশ নয় বরং বিশ্বকেও কাঁদিয়েছে। এমন অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে এই আন্দোলনে। প্রশ্ন হলো এই আন্দোলন এবং শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা আমরা জেনেছি গণমাধ্যমে এবং সোস্যাল মিডিয়ায়।

কিন্তু দেশের অসংখ্য পুলিশও তো মরেছে। পুলিশের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা কয়টা গণমাধ্যম তুলে ধরেছে। একেকজন পুলিশ সদস্যের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। রেহাই পায়নি অন্ত স্বত্বা নারী পুলিশ সদস্যও। কে চালালো এই হত্যাকান্ড? কে পুড়লো তাদের দেহ? কেন এতো ক্ষোভ পুলিশের প্রতি। আচ্ছা একবার ভাবুনতো ক’জন ওসি-এসপি লেভেলের পুলিশ মারা গেছে। যাদের মৃত্যু হয়েছে তারাতো উর্ধতন পুলিশের হুকুমের গোলাম। সব পুলিশ কি অপরাধী ছিল। যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা সবাই কি অপরাধী? আচ্ছা নিরপরাধ যেসব পুলিশের মৃত্যু হয়েছে তার দায় কে নেবে? কতোটা আতংকে পুলিশ কর্মবিরতিতে গেল এবং অনেকেই চাকুরী ছাড়ার সিন্ধান্ত নিল। কিন্তু কেন? আমরা ভাবিনি কখনো।

মিডিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে যেভাবে গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে ঠিক তেমনি পুলিশের উপর নির্যাতনের সংবাদ যদি প্রকাশ হতো তাহলে মানুষ টিভি স্কিনে ভয়ানক দৃশ্য দেখতে পেত। কতটা অমানবিক? কতটা নিষ্ঠুর -জঘন্য সেই নির্মমতা। পুলিশকে যেভাবে বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের শিকার হতে হয়েছে সেটা যদি সাধারণ মানুষ জানতে পারতো তাহলে হয়তো এই পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতি জনগণের যে নেগেটিভ ধারণা সেটা থাকতো না। এখন প্রশ্ন হলো মিডিয়া কেন একপাক্ষিক। জানি এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না কারণ স্রোতের বিপরীতে কজন দাড়ায়।

আচ্ছা আমরা তো নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি কিন্তু আড়ালেই থাকা এসব হত্যাকান্ডের বিচার হবে কি? যদি হয় তাহলে শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের সাথে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ হত্যার বিচার সমান গুরুত্ব পাবে কি? সারাদেশে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ আর লুটপাটের বিচার হবে কি? যদি হয় তবেই নতুন বাংলাদেশর স্বার্থকতা নয়তো আমরা পরাধীনতার শিকলেই বন্দি থাকলাম।

বার বার যখন বলা হচ্ছে আমরা স্বাধীন তখন বাক স্বাধীনতা থেকেই এই লেখা। নিরপেক্ষ মন্তব্য যে কোন নাগরিক করতেই পারে। আর মুক্তবাক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অধিকার। এই অধিকারের গলা চিপে ধরার চেষ্টা করা হলে বুঝতে হবে আমরা পরাধীনই রয়ে গেছি। কোন দলীয় ট্যাগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ রইলো।

লেখক- সংবাদিক আমিরুল কবীর সুজন।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply