দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ছয় টুকরো করেন ফাতেমা

অনলাইন ডেস্ক:

স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যার পর ছয় টুকরো করেন ফাতেমা খাতুন। পুলিশের কাছে ফাতেমা স্বামীকে হত্যার কারণ ও লাশ টুকরো করার কাহিনি খুলে বলেছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) হারুন অর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ফাতেমাকে গ্রেফতারের পর ময়না মিয়া হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। ফাতেমা পুরো ঘটনাটি স্বীকার করেছেন।

এর আগে রবিবার মরদেহের ছয় টুকরার মধ্যে দেহ পড়ে ছিল মহাখালীর আমতলী সড়কে। দুই হাত ও দুই পা পুলিশ উদ্ধার করে মহাখালীর এনা বাস কাউন্টারের সামনের সড়ক থেকে। আর মরদেহের মাথা উদ্ধার করা হয় বনানীর-১১ নম্বরের লেক থেকে। নিহত ময়না মিয়ার প্রথম স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হারুন-অর-রশীদ বলেন, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের আমতলী এলাকায় একটা নীল রঙের ড্রামের মধ্য থেকে বনানী থানার পুলিশ এক পুরুষের মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে। একই রাতে ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছে একটা ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত দুটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ ভিকটিমের পরিচিতি শনাক্ত করার জন্য চেষ্টা চালায়। আর ডিবির গুলশান বিভাগের একটি টিম নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হয়।

ডিবির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তি বনানীর কড়াইল এলাকায় তার প্রথম স্ত্রী ফাতেমার সঙ্গে কয়েক দিন ধরে বসবাস করছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ বনানী থানার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির কোম্পানি অফিস থেকে আসামি ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মশিউর রহমান বলেন, গ্রেফতার ফাতেমা জানান, গত ২৩ মে থেকে তার স্বামী নিহত ময়না মিয়া কড়াইল এলাকায় তার বাসাতেই অবস্থান করছিলেন। পারিবারিক কলহ, টাকাপয়সা বণ্টন এবং তাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়ার সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরে জবাই করে লাশ গুম করেন।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনা মোতাবেক কড়াইল এলাকা থেকে ফাতেমা দুই পাতা ঘুমের ট্যাবলেট কিনে শুক্রবার রাতে জুসের সঙ্গে স্বামীকে খাইয়ে দেন। সারা রাত ও পরের সারা দিন তার স্বামী ঘুমে অচেতন থাকার পর সন্ধ্যার দিকে কিছুটা সম্বিত ফিরে পেয়ে স্ত্রীকে বকাবকি করে মারধর করতে গিয়ে বিছানায় লুটিয়ে পড়েন। এ সময় ময়না মিয়া পানি পানি বলে আর্তনাদ করলে ফাতেমা ঘুমের ট্যাবলেট মেশানো জুস আবার তার মুখে ঢেলে দেন। একপর্যায়ে ময়না মিয়া নিস্তেজ হয়ে খাটে পড়ে গেলে ফাতেমা তার ওড়না দিয়ে স্বামীর দুই হাত শরীরের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে দেন। এরপর তার বুকের ওপরে বসে বাসায় থাকা নতুন ধারালো স্টিলের চাকু দিয়ে স্বামীর গলা কাটা শুরু করেন।

মশিউর রহমান বলেন, একপর্যায়ে ফাতেমার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ময়না মিয়া নিজের হাত মুক্ত করে ফাতেমার হাতে খামচি এবং কামড় বসিয়ে দেন। এতে ফাতেমার রাগ আরো বেড়ে যায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ময়না মিয়া ও ফাতেমা দুজনেই খাট থেকে পড়ে গেলে ফাতেমা ময়নার বুকের ওপর উঠে তার গলার বাকি অংশ কেটে ফেলেন। এভাবে রাত অতিবাহিত হলে সকালবেলা ফাতেমা লাশ গুম করার জন্য ধারালো চাকু দিয়ে ময়না মিয়ার হাতের চামড়া ও মাংস কাটেন এবং ধারালো দা দিয়ে হাড় কেটে খণ্ডিত অংশকে তিনটি ভাগে রাখেন।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাত একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন ফাতেমা। এরপর ১ হাজার ৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেন, পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে দিয়ে চলে আসেন বাসায়। সেখান থেকে খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগটি নিয়ে বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় আসেন ফাতেমা। গ্রেফতারের সময় ফাতেমার কাছ থেকে বোরকা, নিহতের রক্তমাখা জামাকাপড়, ধারালো ছুরি, ধারালো দা, বিষাক্ত পেয়ালা ও শীল-পাটা উদ্ধার করে পুলিশ। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply