
নিউজ ডেস্ক:
ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামী। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর স্বামী ওবায়দুল হক টুটুলকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ফেনী পৌরসভার উত্তর বারাহীপুর ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
তবে ছেলের পরিবারের দাবি, তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকায় টুটুল উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করেন। টুটুলের মা লুৎফর নাহার জানান, ছেলের বউয়ের অন্য জায়গায় পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
ওবায়দুল হক টুটুল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি ওই এলাকার গোলাম মাওলা ভূঁইয়ার ছেলে। তাদের ঘরে দেড় বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
টুটুল লাইভে এসে বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আজকে আমার কারণে আমার পরিবার ধ্বংস। যার কারণে ধ্বংস আজকে তাকে আমি এ মুহূর্তে ধ্বংস করে দিলাম। আমি চেষ্টা করেছি। অনেক চেষ্টা করছি। পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে সবাই আমাকে মাফ করে দেবেন। আমার এতিম মেয়েটার খেয়াল রাখবেন। আমার ভাই-বোনের খেয়াল রাখবেন। আমার পরিবার ভাইবোনের কোনো দোষ নেই। অন্য কেউ এটাতে সম্পৃক্ত নয়। আমি সম্পূর্ণ দায়ী আমার আজকের এ ঘটনার জন্য। প্লিজ সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ আমার ভিডিওটা ভাইরাল করেন।’
স্থানীয় এলাকাবাসী মো. জাকির আহম্মদ, আলা উদ্দিন, মো. মোমিন বলেন, এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম দেখেছি। আর কেউ যেন আর এ ধরনের ঘটনা করতে না পারে সে জন্য তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার দাবি জানান। পারিবারিক কলহের জন্য এ ঘটনা হয়েছে বলে তারা জানান।
ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সুত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।