বিচারের অপেক্ষায় গ্রেনেড হামলায় নিহত কাউনিয়ার রেজিয়া বেগমের স্বজনরা

রংপুর অফিস:

আওয়ামীলীগের কর্মসূচিতে ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় নিহত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রেজিয়া বেগমের স্বজনরা এখন বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ঘটনার ১৭ বছরেও রায় কার্যকর না হওয়ায় অন্ধকার দেখছে তারা।

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ন গ্রমের রেজিয়া কাজের খোঁজে ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমান। বাবা-মাকে নিয়ে হাজারীবাগে বাড্ডায় পানির ট্যাঙ্কের কাছে থাকতেন। ওই এলাকাতেই ইন্ডিয়ান ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করতেন তিনি। ওই সময় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন,২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বাজার করে এনে রান্না করে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হলেও রেজিয়া বাড়ি ফেরেননি। বাবা-মা দুশ্চিন্তা করতে থাকেন। আমি নিজেও আশপাশে খোঁজ করতে থাকি। এরই মধ্যে খবর আসে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলায় অনেক মানুষ মারা গেছে আহত হয়েছে। চার দিকে তন্নতন্ন করে খুঁজেও বোনকে পাইনি। পরে হাসপাতালের লাশ ঘরে গিয়ে দেখি বোনের মরদেহ রাখা। গোটা গায়ে রক্ত ছিল, পায়ের দিক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল।সেই দিন আজও মনে পড়ে।আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী ঘাতকদের বিচারের জন্য? অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে এ কথা বলেন রেজিয়া বেগমের বোন আনোয়ারা বেগম।

ঘটনার ১৭ বছর পর এখন কেমন আছে জানতে চাইলে মৃত রেজিয়ার ছোট ছেলে নুরুন্নবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার নানার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দিলে গ্রামে ২৪ শতক জমি কিনে বাড়ি করা হয়। এখানে আমাকে ৯ শতক, আমার বড় ভাইকে তিন শতক এবং আমার তিন খালার নামে ১২ শতক লিখে দেন নানা। এরপর ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুই ভাইকে চার লাখ করে আট লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী আরও ১২ লাখ করে দুই ভাইকে ২৪ লাখ টাকা দেন। ওই টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করেছি। ব্যাংক থেকে মাসে মাসে টাকা পাই। সেটা দিয়েই সংসার চলে। এবার গরুর খামার বড় করেছি। ভালো আয়-উন্নতি হচ্ছে।

রোজিয়ার বড় ছেলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, মা কে হারিয়ে দিশেহারা হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন। আমরা অনেক সুখে আছি। এখন আমাদের চাওয়া-পাওয়া একটাই আমাদের মা কে যারা গ্রেনেড হামলায় মেরে ফেলেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়।

কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন,গ্রেনেড হামলায় নিহত রেজিয়ার পরিবারের সব সময় খোঁজ খবর নেই।পরিষদের পক্ষ থেকে তার দুই সন্তান ও বোনের জন্য সরকারি সকল সহযোগীতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মফিজার রহমান রাজু বলেন,বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি কলঙ্কময় দিন।২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশে দাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।রংপুরের কাউনিয়ার গ্রেনেট হামলায় নিহত রেজিয়ার দুই সন্তান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহযোগীতায় স্বাবলম্বী। এখন শুধু দাবি গ্রেনেট হামলা কারীদেও সাজা দ্রুত কার্যকরের।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply