
নিউজ ডেস্ক:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামের হেফাজত থেকে কালোবাজারির মাধ্যমে মজুত করা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৬২ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। সরকারি চাল কালোবাজারি এবং মজুতদারির সঙ্গে জড়িত থাকায় আটক করা হয়েছে রুবেল মিয়া ও নজরুল ইসলাম নামে যুবলীগ নেতার দুই সহযোগীকে।
অপর এক ঘটনায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ীর ডিলার ওয়াজেদ হোসেনের ডিলারশীপ এবং জামানতের টাকা বাতিল করে ২লাখ ১৫ হাজার ৪২২ টাকা জরিমানা করে সাত কার্য দিবসের মধ্যে সরকারি খাতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
গাবতলী মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী ইসমত আরার সহযোগিতায় যুবলীগ নেতা মঞ্জুরুল দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ছাড়াও ত্রাণের চাল কালোবাজারি এবং টিআর-কাবিখা কর্মসূচির চাল কেনাবেচায় জড়িত।
প্রতিবেশীর বাড়িতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল মজুত করে রেখেছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে গাবতলী মডেল থানা-পুলিশ মঙ্গলবার রাতে উজগ্রাম মগড়াপাড়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩৩ বস্তা এবং আরেকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৯ বস্তা চাল জব্দ করে। আটক করা হয় রুবেল ও নজরুলকে।
আটক ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান, কালোবাজারির মাধ্যমে কিনে মজুত করা এই চালের মালিক যুবলীগ নেতা মঞ্জুরুল। এ সময় মঞ্জুরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ইসমত আরাকে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্ত অভিযানের খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা মঞ্জুরুল এবং স্ত্রী ইসমত আরা পালিয়ে যান।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবের রেজা আহম্মেদ বলেন, ‘৬২ বস্তা সরকারি চাল কালোবাজারি ও মজুতদারির সঙ্গে মঞ্জুরুল ইসলাম জড়িত। অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়েছেন।
এদিকে বুধবার গাবতলী উপজেলা খাদ্য বান্ধব কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত ডিলার ওয়াজেদ হোসেনকে চাল উত্তোলনের অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলারসিপ বাতিল করা হয়। এছাড়াও তার জামানতের টাকা বাতিল করা হয়। ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ী বন্দরে ওয়াজেদ হোসেন তার গুদামে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হতদরিদ্র সুবিধা ভোগীদের মাঝে ১০টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ করছিলেন। ডিলারের বরাদ্দকৃত ৪৯৫ বস্তা চালের মধ্যে ৩৯৫ বস্তা চাল উত্তোলন করে। বাকী একশত বস্তা চাল উত্তোলন না করায় মহিষাবান ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার সুলতান মাহমুদের নজরে পড়ে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষে ঐদিন ইউএনও রওনক জাহান ভ্রামমাণ আদালত বসিয়ে ডিলারকে ১০হাজার টাকা জরিমানাসহ চাল বিক্রির গুদাম ঘর বন্ধ করে সীলগালা করে দেন।
এ ঘটনায় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করে তিন সদস্যে বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত শেষে ডিলার ওয়াজেদ হোসেন এর বিরুদ্ধে ১শ’ বস্তা চাল উত্তোলনের অনিয়ম করায় ডিলালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটির আহবায়ক উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক জাহানের নিকট প্রতিবেদন জমা দিয়ে ছিলেন।
সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।