সময় অল্প লম্বা গল্প

হায় পাসপোর্ট অফিস !!

নূরুল ইসলাম বরিন্দী:

আমি গত ১৮ নভেম্বর /২০১৯ তারিখে ঢাকার আগারগাঁও-এর পাসপোর্ট অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়াই আবেদন জমা দেয়ার জন্য । দীর্ঘ সময় ধরে এ-কাউন্টার ও-কাউন্টার ঘুরে ঘুরে যখন মাইকের অ্যানাউন্সে জানতে পারি বয়স্কদের সুবিধার জন্য আলাদা কাউন্টারের ব্যবস্থা রয়েছে তখন সেখানে গিয়ে লাইনে দাঁড়াই এবং কিছুক্ষণ পর যখন ডেলিভারি স্লিপখানা হাতে পেয়ে যাই তখন কিছুটা হলেও চিত্তে আনন্দ অনুভব করি এই ভেবে যে, ইতিমধ্যে যে কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট আর হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তার বিনিময়ে  নিয়মানুযায়ী বিশ-বাইশ দিন পরে হাতে পাসপোর্ট পেয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা কী  সৌভাগ্যের নয়!

শুধু আমি নই, দেখলাম আমার মতো আরও অনেক সত্তরোর্ধ প্রবীণও এমন বিরক্তিকর বিড়ম্বনার শিকার হয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ছেন! আমার কাউন্টার স্লিপে দেখলাম  ডেলিভারি ডেট দেয়া হয়েছে ৯ ডিসেম্বর/২০১৯ [পাসপোর্ট টাইপঃ অর্ডিনারি, ডেলিভারি টাইপঃ রেগুলার, এনরোল্ড বাইঃ  আনোয়ারা, কাউন্টার  আইডি   এনরোল ০৮]। এই হিসেবে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার কথা ২০-২৫ দিনের মধ্যে । কিন্তু আজ প্রায় ৬ মাস গত হতে চলল [৩০ মে/২০২০] অদ্যাবধি পাসপোর্ট পাওয়ার কোনো আশার আলো দেখছি না । কী অবস্থায় আছে তা জানার জন্য এস এম এস করলে প্রথমদিকে জানানো হতো ‘প্রসেসে রয়েছে’ । কিছুদিন পর বলা হয় ‘ডিডি/এডির এপ্রুভালের জন্য অপেক্ষমাণ’ । ইদানীং বলা হচ্ছে ‘পাসপোর্ট বইয়ের সংকট, প্রিন্টিং প্রসেসে আছে’ ইত্যাদি ।

এই প্রিন্টিংয়ের কাজ কতদিনে শেষ হবে আমরা জানি না । পাসপোর্ট নিয়ে এই প্রহসন আর ঘাপলাবাজির কবে নাগাদ অবসান ঘটবে তারও কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না ।  প্রার্থীদের অনেকেই চিকিৎসা , ব্যবসা, চাকরি, হজ-উমরা কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেতে পারছেন না পাসপোর্ট না পাওয়ার কারণে । এদিকে দশ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গত ২২ জানুয়ারি/২০২০ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের মাধ্যমে । এর পাশাপাশি নাকি পূর্বের এম আর পি পদ্ধতির পাসপোর্টও বহাল থাকবে, তবে নতুন করে আর কাউকে এম আর পি দেওয়া হবে না-পর্যায়ক্রমে তা তুলে নেওয়া হবে। আবার শোনা যাচ্ছে বাড়তি টাকার বিনিময়েও নাকি ডেলিভারি পাওয়া যায় । ইতিমধ্যে কয়েকটি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদন মারফত জানা গেল যেখানে ৪/৫ দিনের মধ্যে ই-পাসপোর্ট দেওয়ার কথা, যান্ত্রিক জটিলতার কারণে তাও নাকি নির্ধারিত সময়ে প্রার্থীরা  পাচ্ছেন না । এখনতো আবার করোনার কাল, লকডাউনের অজুহাত ! এই যদি হয় একটি জনগুরুত্বসম্পন্ন সরকারি অফিসের অবস্থা তাহলে আমরা যারা পূর্বের এম আর পি-র প্রার্থী নিদারুণ বিড়ম্বনার শিকার হয়ে পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছি তাদের কী হবে ? এমতাবস্থায়  উদ্দেশ্যমূলকভাবে বই-সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক নয় কী ?

পরিশেষে সবিনয়ে বলতে চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে বিষয়টির আশু সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে হাজার হাজার পাসপোর্ট প্রত্যাশীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান ঘটাবেন এটাই কাম্য ।

নূরুল ইসলাম বরিন্দী,ই-মেইল: nibarindi@gmail.com

এম২৪নিউজ/আখতার।