আমাদের সালাত বা নামাজ সম্পর্কে কিছু বক্তব্য (পর্ব-২)

নূরুল ইসলাম বরিন্দী ।। র্পূব প্রকাশের পর….

যেভাবে পড়লে নামাজ বিশুদ্ধ হবে:

সালাত বা নামাজ ইসলামের মূল পাঁচটি রুকনের মধ্যে অন্যতম একটি। ইসলামী জীবনবিধানে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ কাজ, আমল বা ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বহুবার আদেশ আকারে এবং আরো বহুবার অন্যভাবে নামাজ ‘কায়েম’ করার কথা বলেছেন। এই ‘কায়েম করা’ বাক্যটি দ্বারা আল্লাহতায়ালা যা বুঝাতে চেয়েছেন তা রাসুল (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এটি আদায়ের মাধ্যমেই যে মহান আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা ও নৈকট্যলাভ করা যায় তা বহুবার কুরআন এবং হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এ সম্পর্কে জানার আগে আসুন আমরা জেনে নেই এটি সহিহভাবে আদায় করার নিয়ম-পদ্ধতিগুলোঃ

*ওয়াক্ত হলে প্রথমেই পাক-পবিত্র অবস্থায় অজু করে কিবলামুখি হয়ে দুনিয়াবি সমস্ত চিন্তা-ভাবনা মন থেকে ঝেড়ে মুছে ফেলে একাগ্রচিত্তে আল্লাহকে সামনে হাজির-নাজির (খুশু-খুজু) জেনে একাগ্রচিত্তে (মনে রাখতে হবে আপনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে দেখতে না পেলেও তিনি আপনাকে দেখছেন, এমনকি মনে মনে যা ভাবছেন সে বিষয়েও তিনি জ্ঞাত) জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যে ওয়াক্ত এবং যত রাকাত পড়বেন তার নিয়ত করতে হবে। নিয়ত মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে করাই যথেষ্ট। কারণ নিয়তের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো এটি জিহ্বার নয়, কাল্ব-এর অর্থাৎ অন্তরের। পায়ের অবস্থান থাকবে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোর ভঙ্গিমায়। পায়ের গোড়ালি ও অগ্রভাগ সোজা করে কিবলামুখি রাখতে হবে। জামাতের সাথে হলে পাশের মুসল্লির কাঁধে কাঁধ, পায়ের সাথে পা মিশিয়ে কাতার সোজা করতে হবে। এরপর তাকবিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” (আল্লাহ মহান) বলে দুহাত কান অথবা কাঁধ বরাবর উঠিয়ে নাভির নিচে বাম হাতের ওপর ডান হাত বাঁধতে হবে। হাত ওঠানোর সময় আঙ্গুলগুলো সোজা এবং হাত কিবলামুখি রাখতে হবে।

কেউ কেউ হাত বুকের ওপরও বাঁধেন এবং রুকুতে যাবার আগে ও রুকু থেকে ওঠার সময় হাত কাঁধ পর্যন্ত ওঠান। এরও শুদ্ধতা বিষয়ক বিভিন্ন হাদিসের দলিল রয়েছে ( যেমন: সহি ইবনু খুজাইমা, আবু দাউদ, আলবানী প্রমুখ)। দাঁড়ানো ও রুকু অবস্থায় দৃষ্টি থাকবে সিজদার স্থানে। অতঃপর সানা “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা”(হে আল্লাহ! আপনি অতি পবিত্র। সকল প্রসংশা শুধু আপনারই। আপনার নাম কল্যাণময়। আপনার মহিমা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আপনি ছাড়া আর কেউ উপাস্য নাই)।

উল্লেখ্য, সানার ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেলেও এই সানাটিই বেশি প্রচলিত। এরপর চুপে চুপে তায়ায়্যুজ “আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম” (আমি আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় চাচ্ছি) পড়ে চুপে চুপে তাসমিয়া “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” (পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি) বলে সুরা ফাতিহা পাঠ করবেন। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ইমাম সাহেব হোন আর একাকী হোন পড়ার সময় ৭টি আয়াতই থেমে থেমে পাঠ করা উত্তম। কারণ নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠের সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রতিটি আয়াতের জবাব দিয়ে থাকেন (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসলিম)। (ইমামরে পছিনে মোক্তাদীদরে নিশ্বঃব্দে ফাতহিা পাঠ এবং পাঠ না করে চুপ থাকার পক্ষেও নির্ভরযোগ্য হাদিস রয়েছে)। ফাতিহা পাঠ শেষে ‘আমিন’ (হে আল্লাহ কবুল করুন) বলবেন।

এরপর পুনরায় চুপে চুপে তাসমিয়া “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বলে যেকোনো একটি সুরা বা সুরার অংশবিশেষ (কমের পক্ষে ৩টি আয়াত) পড়বেন। সুরা পড়া শেষে “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যাবেন (উল্লখ্যে যে, রুকুতে যাওয়ার আগে দুই হাত কান কিংবা কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ‘রাফউল ইয়াদাইন’ করা আবার রুকু থকেে দাঁদিয়ে ‘রাফউল ইয়াদাইন’ করার পদ্ধতিও অনকে সহহি হাদসিে বর্ণিত আছে যা বভিন্নি মাজহাবরে মধ্যে চলমান দখো যায় ), এরপর হাঁটুতে হাত রেখে আঙ্গুলগুলো একটু ফাঁক ফাঁক রাখবেন। পিঠ এমনভাবে সোজা রাখতে হবে যেন মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত সমান্তরাল থাকে। এরপর রুকুর তাসবিহ “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম”(আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা ঘোষণা করছি) ৩ বা ততোধিকবার (বেজোড়) পড়বেন।

অতঃপর রুকুর তাছমিয়া “সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ” (যে লোক আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার কথা শোনেন) বলে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন। একে কাওমা বলা হয়। দাঁড়ানো অবস্থায় তাহমিদ “রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ”(হে আমাদের রব, সকল প্রশংসা আপনারই) পড়বেন। এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে হাত রাখার আগে হাঁটু রাখবেন। সিজদারত অবস্থায় কান বরাবর হাতের তালু মাটিতে বিছিয়ে রাখতে হবে। হাতের আঙ্গুলগুলো সোজা করে নরমভাবে মিলিয়ে কেবলামুখি করে রাখবেন। হাতের কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত দুই বাহু জমিনের থেকে পৃথক রাখবেন, কনুই জমিনে বিছানো যাবে না।

পেট থেকে উরু এতটুকু পরিমাণ দূরে রাখতে হবে যাতে ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে একটি ছাগলছানা আসা-যাওয়া করতে পারে। মেরুদন্ড সোজা রাখতে হবে। অবশ্য মহিলাগণ আঁটসাঁট হয়ে সিজদা করবেন (বুখারী-মুসলিমের হাদিসে আছেঃ রাসুল (সাঃ) ৭টি অঙ্গ দিয়ে সিজদা করতেন, যেমন দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু, দুই পায়ের আঙ্গুলসমূহ এবং কপাল-নাক)।

এরপর সিজদার তাসবিহ -“সুবহানা রাব্বিয়াল আলা”(আমি আমার উচ্চতম মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি) ৩ বা ততোধিকবার (বেজোড়) পড়ে “আল্লাহু আকবার” বলে উঠে বসবেন এবং পুনরায় “আল্লাহু আকবার”বলে দ্বিতীয় সিজদায় যাবেন (কোনো কোনো মাজহাবে দুই সিজদার মাঝখানে এ দোয়াটিও পড়ার নিয়ম চালু রয়েছে “আল্লা হুম্মাগফিরলি ওয়ার হামনি, ওয়ার জুকনি, ওয়াহদ্বীনি” (আপনি আমাকে মাফ করে দিন, আপনি আমার ওপর রহম করুন, আমাকে রিজিক দান করুন, আমাকে সঠিক পথে চালিত করুন) অতঃপর প্রথম সিজদার মতো তাসবিহ পড়বেন। এরপর “আল্লাহু আকবার” বলে উঠে দাঁড়াবেন । (লেখাটি ধারাবাহিকভাবে চলবে……)

নূরুল ইসলাম বরিন্দী, Email: nibarindi@gmail.com

Leave a Reply