
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্বীকৃতি
মিঠাপুকুর২৪নিউজ ডেস্ক:
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ সম্মাননা দিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ইউনিসেফ ভবনে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মানজনক এই পুরস্কার তুলে দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হেনরিটা ফোর।
ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ‘ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ বাস্তবায়ন, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনার সরকারের প্রশংসা করেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক।
সম্মাননা পাওয়ার পর ইউনিসেফের এই পুরস্কার দেশবাসী এবং বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের শিশুদের উত্সর্গ করে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। তাই তরুণদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের শিক্ষাকে আরো এগিয়ে নিতে উত্সাহিত করবে। তিনি বলেন, ‘এই সম্মান আমার একার নয়, এটি বাংলাদেশের। কারণ বাংলাদেশের জনগণ আমাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছেন। এ কারণেই আমি তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’
প্রতি বছর ২০ লাখ যুবক বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দক্ষতা বিকাশের দিকে গুরুত্বের সঙ্গে মনোনিবেশ করেছি এবং যুবকদের যথাযথ জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সরকার নির্বাচিত ১০০টি উপজেলায় ১০০টি কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন করছে।’ বাংলাদেশের উন্নয়নে, বিশেষ করে শিক্ষার পাশাপাশি শিশু ও নারীর উন্নয়নে সহায়তার জন্য ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানান। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বলেন, শিশু মৃত্যুর হার কমাতে, শিক্ষার হার বাড়াতে এবং লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ‘দুর্দান্ত অগ্রগতি’ অর্জন করেছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান :অভিন্ন সুবিধা ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও বৃহত্তম বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে দেখতে পেয়ে আমি আনন্দিত। আরো উন্নয়নের জন্য আপনাদের বিনিয়োগ ও সম্পৃক্ততা জরুরি। এটি আমাদের উভয়ের জন্য একটি উইন-উইন অপশন।’
স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের লোট নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে ইউএস চেম্বারস অব কমার্স আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন । শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগনীতি সবচেয়ে উদার। এর বহুবিধ সুবিধার মধ্যে কয়েকটি হলো আইনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা; উদার ট্যাক্স হলিডে; যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতি শুল্ক; অবাধ ও এক্সিট নীতি; এক্সিটের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ ও মূলধনের পূর্ণ প্রত্যার্পণ। এছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি’ ও ‘দ্বৈত করারোপ সমঝোতা’ স্বাক্ষর করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ গত পাঁচ বছরে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক ও কারিগরি সক্ষমতার বিচারে এটি মার্কিন বিনিয়োগ সম্ভাবনার অনেক কম।
প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন ও এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ইউএস চেম্বারস অব কমার্স এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারাও বৈঠকে যোগ দেন।
সূত্র:- দৈনিক ইত্তেফাক (28/09/2019)