উপজেলা থেকেই ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে হবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

অনলাইন ডেস্ক:

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে ভিডিও কনফারেন্সে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ পারভেজ উক্ত শুভ উদ্বাধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত থেকে মিঠাপুকুর উপজেলার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নবনির্মিত মিঠাপুকুর উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সভাকক্ষ থেকে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কর্মকতাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের আওতায় আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারী) দেশের ১০০টি উপজেলায় স্থাপিত উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ ধারাবাহিকতায় ১ম পর্যায়ে মিঠাপুকুর উপজেলাও ‘উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ উদ্বোধন হয়।

মিঠাপুকুর উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চিত্র। ছবি- M24News

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘উপজেলা থেকেই ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে হবে’।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে রাজধানীকেন্দ্রিক উদ্যোগের বাইরে গিয়ে উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে আইসিটি সেবা ও দক্ষতা সম্প্রসারণ জরুরী। ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলায় কেন্দ্র প্রস্তুত হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসে আরও ১৭৯টি কেন্দ্রের কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান।

বিশেষ সহকারী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য অফিস স্পেস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কো-ওয়ার্কিং স্পেস নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের আইসিটি দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আইসিটি সহায়তা প্রদান করা হবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, আইডিয়া, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ও অন্যান্য জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সারা বছর কার্যকর রাখা হবে তাই অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, উপজেলা আইসিটি সেবা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন টিউ-আইসিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

তিনি জানান, ৪০০টি উপজেলার লক্ষ্যের মধ্যে ৩০৩টি কেন্দ্র সক্রিয় হয়েছে, যার মধ্যে ১০০টি আজ রোলআউট করা হয়েছে।

সচিব আরও বলেন, আইসিটি বিভাগ ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ও সাইবার সিকিউরিটি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর বিশেষ সহকারীর দিকনির্দেশনায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব, সুসজ্জিত প্রশিক্ষণ কক্ষ, স্টার্ট-আপ জোন এবং প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন। স্টার্ট-আপ জোনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইসসহ একসঙ্গে অন্তত ২০ জন উদ্যোক্তা বা ফ্রিল্যান্সারের কাজ করার সুবিধা থাকবে।

এই উদ্যোগের ফলে উপজেলা পর্যায়ে তরুণরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ওয়ার্কিং স্পেস সুবিধা পাবে, যা নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তরুণরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হবে। প্রতিটি প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন থেকে বছরে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি এসব কেন্দ্র উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি অফিসারের কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা প্রদানে গতি আনবে পাশাপাশি এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবু সাঈদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মামুনুর রশীদসহ আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাগণ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন যে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দেশের ১ম পর্যায়ে মিঠাপুকুর উপজেলায় বাস্তবায়িত হওয়ায় মিঠাপুকুরবাসী সৌভাগ্যবান। এর মাধ্যমে মিঠাপুকুরবাসী উপকৃত হবে।

সুবিধা সমূহ:

উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ডিজিটাল ল্যাব, প্রশিক্ষণ কক্ষ, স্টার্ট-আপ জোন, প্লাগ এন্ড প্লে জোন প্রভৃতি সুবিধা থাকবে।

স্টার্ট-আপ জোনে ডিজিটাল ডিভাইস ও কানেক্টিভিটি সম্বলিত ওয়ার্কিং ফ্যাসিলিটি থাকবে। উপজেলা পর্যায়ে একত্রে ২০ জন উদ্যোক্তা/ফ্রিল্যান্সার ওয়ার্কিং ফ্যাসিলিটি পাবেন।

উপজেলা পর্যায়ে তরুণ-তরুণীরা প্রশিক্ষন এবং ওয়ার্কিং স্পেস পেলে নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার তৈরি হবে এবং আত্মকর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই তরুণরা এ ফ্রিল্যান্সিং করে ডলারে ইনকাম করতে পারবেন।

প্রতিটি প্লাগ এন্ড প্লে জোন থেকে বছরে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবা পাবে।

উপজেলা আইসিটি অফিসারের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

ফটো ও তথ্য: উপজেলা আইসিটি টেকনিশিয়ান লক্ষন চন্দ্র।

এম২৪নিউজ/আখতার

২ thoughts on “উপজেলা থেকেই ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে হবে: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

Leave a Reply