
মিঠাপুকুর২৪নিউজ ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যেখানেই দুর্নীতি, টেন্ডারবাজী সেখানেই শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা নয় সুনামগঞ্জ থেকে কুতুবদিয়া পর্যন্ত শুদ্ধি অভিযান চলবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হসিনা সেখানে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, সেখানে আমরা তার কর্মী হয়ে যদি অপকর্ম করি– এর চেয়ে আর লজ্জা কি হতে পারে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার এই শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছড়ি দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নিতিবাজ। তারা ক্যসিনো, জুয়া চালু করেছে। এখন শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ায় বিএনপি বেসামাল হয়ে গেছে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে। কোথায় যে দুর্ঘটনা ঘটায়।
শুদ্ধি অভিযানে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি বলে বেড়ায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতা থাকবে না-‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী। অথচ শেখ হাসিনা ক্ষমাতায় না এলে দেশের স্বাধীনতা ধংশ হয়ে যেতো।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর নজরুল অডিটরিয়ামে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্য এবং সিলেট জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আ ন ম শফিকুল হক স্মরণে শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথাগুলো বলেন। তিনি এই শুদ্ধি অভিযান নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি এই অভিযানকে ভিন্নখাতে প্রবাহিতের চেষ্টা করছে।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, দেশে বিএনপির আমলে টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজিসহ মাদক সন্ত্রাসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তখন তারা নিজেদের দলের কারোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়নি।
সিলেটে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের মধ্যে কোন্দল মেটাতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। দলের কোন্দলের জন্য আমরা অনেক সময় নির্বাচনে হেরে যাই। দলের কোন্দল মিটিয়ে দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেন তিনি।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বারবার প্রস্তুতি নিয়েও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি হয়নি। আমার মন্ত্রণালয়ের এ সচিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এই প্রকল্পে দেরি হয়েছে। তবে এখন সব জটিলতা কেটে গেছে। শীঘ্রই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হবে। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসময় তিনি সিলেটের আরো কয়েকটি রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
প্রয়াত নেতা আ.ন.ম শফিকুল হককে দুঃসময়ের কান্ডারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শফিকুল হকের মত ত্যাগী নেতা আমি কম দেখেছি। তিনি অন্ধকারের পথ অতিক্রম করেছেন। তিনি ছিলেন অকুতোভয়, আপোষহীন ছিলেন। দলের জন্য এমন নেতার শোক সভায় আমি এসেছি প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে। মন্ত্রী, সিলেটের প্রায়ত নেতাদের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘বাগানের শুভাষিত ফুল একে একে ঝড়ে যাচ্ছে।’ তাই যারা সামর্থবান তারা যেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের পাশে দাড়ান। মন্ত্রী নিজেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে থাকেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় শোকসভায় সভাপত্বি করেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, কেন্দ্রীয় সদস্য রফিকুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন সাংসদ দেওয়ান শাহ নেওয়াজ গাজী, মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সাবেক সাংসদ সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, জেলা সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ, মাসুক উদ্দিন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল খালিক, সিরাজুল ইসলাম, রাজ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুর আনোয়ার আলোয়ার, বিজিত চৌধুরী, মো. জাকির হোসেন, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. নিজাম উদ্দিন, সুজাত আলী রফিক, নাসির উদ্দিন খান, জেলা সাংগঠনিক এড. শাহ মোশাহিদ আলী, মো আলী দুলাল, মহানগর সাংগঠনিক শফিউল আলম নাদেল, এটিএম হাসান জেবুল, নুরুল ইসলাম পুতুল প্রমুখ।
সূত্র:- ইত্তেফাক অনলাইন।