
মিঠাপুকুর২৪নিউজ ডেস্ক:
দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, একজন শিক্ষিত ও আদর্শবান নারী তার পরিবার, সমাজ এবং গোটা দেশসহ পুরো একটি জাতিকে আলোকিত করে এগিয়ে নিয়ে যায়। একজন শিক্ষিত ও আদর্শ মা একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারেন। নারীকে অন্ধকারে রেখে কোনো জাতি উন্নতির শিখরে যেতে পারে না। কাজেই নারীকে আদর্শ শিক্ষায় আমাদের শিক্ষিত গড়ে তুলতে হবে। যার অনন্য দৃষ্টান্ত কুমুদিনী পরিবার।
শনিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নারী শিক্ষা, নারী জাগরণ ও সাংস্কৃতিক চর্চার অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে তাসমিমা হোসেন ভারতেশ্বরী হোমসে এলে কুমুদিনী পরিবারের সদস্য ও ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি অধ্যক্ষ প্রতিভা মুৎসুদ্দি মিলনায়তনে (পিপিএম হলে) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তার সম্মানে শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা কবিতা পাঠ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
ভারতেশ্বরী হোমসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অমলেন্দু সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভাষা সৈনিক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ও কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেডের শিক্ষা পরিচালক এবং ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক প্রিন্সিপাল মিস প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেডের পরিচালক শ্রী মতি সাহা, নারী নেত্রী ও সমাজ সেবী মিসেস জয়ন্তী রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, ভারতেশ্বরী হোমসের সিনিয়র শিক্ষিকা হেনা সুলতানা।
এ সয়ম কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক প্রিন্সিপাল মিস ইলফাতুননেছাসহ শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মির্জাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংবাদিকগণ তাসমিমা হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তাসমিমা হোসেন বলেন, পুরুষরা সমাজ শাসন করবে আর নারীরা অন্ধকারে বসে থাকবে, তা হতে পারে না। অন্ধকার থেকে নারীদের আলোর পথে বের হয়ে আসতে হবে। নারী শক্তি না থাকলে একজন পুরুষ সমাজকে পরিপূর্ণভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন না। একজন আদর্শবান নারী একজন পুরুষকে সব সময় শক্তি যোগায়। নারীকে শৃঙ্খলাবোধ, লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী, সাংস্কৃতিক চর্চাসহ মূল্যবোধ সৃষ্টিতে সব সময় কাজ করে যেতে হবে।
দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা (আরপি সাহার) উদাহরণ দিয়ে তাসমিমা হোসেন আরও বলেন, আজ এ দেশের রাজনীতিবিদরা দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে বিপুল টাকার মালিক হচ্ছেন। তারা দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা না করে কিভাবে তারা লুটপাট করবে এ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা কখনো নিজের ও পরিবারের কথা ভাবেননি। তিনি ভেবেছেন কিভাবে নারীকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যায়। দেশের মানুষ কিভাবে সেবা পাবে সে জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ, টাঙ্গাইল কুমুদিনী মহিলা কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
রণদা প্রসাদ সাহা মনে করতেন তার একেকটা প্রতিষ্ঠান যেন তার তীর্থস্থান। সেই তীর্থস্থানগুলো তার কন্যা জয়া, বিজয়া, প্রতিভা মুৎসুদ্দি এবং তার উত্তরসূরি রাজিব আজও ধরে রেখেছেন। যার ফল এখন এ দেশের মানুষ ভোগ করে যাচ্ছেন। তার মত মহান ও আদর্শবান ব্যক্তি আজ এ দেশে বিশেষ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি আওয়ামী লীগ নেতাদের
তাসমিমা হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতকে শক্তিশালী ও সহযোগিতা করার জন্য ইত্তেফাক তৈরি করেছিলেন মহান এক ব্যক্তি ও প্রথিতযশা সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের সময় ইত্তেফাক ছিল গণমানুষের মুখপাত্র। ইত্তেফাক তার নীতি ও আদর্শে অটল রয়েছে। বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ দাস, সুকান্তসহ কবি সাহিত্যিকরা যে ভাবে তাদের লেখনী দিয়ে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ইত্তেফাকও একই ভাবে তার লেখনী দিয়ে কাজ করে গেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছে।
তিনি কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান, ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে ভারতেশ্বরী হোমসের নার্সারী থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন। বিকেলে কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রামে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার পৈত্রিক নিবাস ঘুরে দেখে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
সূত্র:- ইত্তেফাক অনলাইন।
