
নিউজ ডেস্ক:
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ কয়েকশ লোককে আটক করে পুলিশ।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তাল ছিল দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চণ্ডীগড়, মুম্বাই, কর্নাটকসহ ভারতের বহুশহর। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল দিল্লির কয়েকটি জায়গায়। কিন্তু তা উপেক্ষা করে ইলালকেল্লা এলাকায় ভিড় জমাতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। আগে থেকেই সেখানে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিক্ষোভকারীরা লালকেল্লার সামনে জমায়েত হতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তা ধস্তি শুরু হয়ে যায়। বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১৮টি মেট্রোস্টেশন। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেটও।
মান্ডি হাউসের সামনে এদিন সকালে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কংগ্রেস নেতা সন্দী পদীক্ষিত। সেখান থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। সন্দী বলেন, ‘লাল কেল্লায় যেতে দেওয়া হয়নি আমাকে। তাই মান্ডি হাউসেই প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলাম।’ ওই মান্ডি হাউসের সামনেই প্রতিবাদ করছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারা মইয়ে চুরি এবং ডিরাজা। তাদেরও আটক করে পুলিশ।
সিএএ’র প্রতিবাদে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। পুলিশের গাড়ি বাসে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। চণ্ডীগড়েও ছাত্ররা প্রতিবাদ মিছিল করেন। বিহারেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। পুলিশের সঙ্গে বেশ কয়েক জায়গায় খণ্ডযুদ্ধও হয় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে। বিহার ও বেঙ্গালুরু থেকে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার কারণে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে কয়েকদিনের বিক্ষোভের পর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশ, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই ও দিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে। নাগরিক সংগঠন, রাজনৈতিকদল, শিক্ষার্থী, অ্যাক্টিভিস্টও সাধারণ নাগরিক রাটুইটারও ইন্সটাগ্রামের মত সোশ্যালমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। খবর আনন্দ বাজার পত্রিকা ও বিবিসির।
ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই আইন ভারতের মানুষের মধ্যে ব্যাপক বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিজেপি সরকার বলছে, এটি ধর্মীয় সহিংসতা থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের হিন্দুদের রক্ষা করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের পরিপন্থী। এটি ভারতের ২০ কোটির বেশি মুসলিমদের কোনঠাসা করার ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ এজেন্ডা।
সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।