তারকাদের শুভেচ্ছায় দৈনিক ইত্তেফাক

অনলাইন ডেস্ক:

দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৯তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে প্রতিবছর যখনই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীদের স্মৃতিচারণা সংগ্রহ করতে যাই তখনই তারা নানা বর্ণিল স্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কারণ ইত্তেফাকের নানা অনুষঙ্গের সঙ্গে সম্পৃক্ত হননি এমন তারকা-কলাকুশলী নেই বললেই চলে। তারকাদের কাছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম ইত্তেফাক। এবারো ইত্তেফাকের জন্মদিনে শিল্পী-কলাকুশলীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গ্রন্থিত হলো—

কাজী হায়াৎ: আমার সঙ্গে তো ইত্তেফাকের সম্পর্ক পাঠক আর পত্রিকার মতো নয়। পত্রিকাটি কয়েক যুগ ধরে আমার পরিবারের অংশ। আমাদের সময় পত্রিকা বলতে তো ইত্তেফাক’ই ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পত্রিকাটি যে সাহস দেখিছে তা বাঙালি আজীবন মনে রাখবে। যার ধারাবাহিকতা আজো ধরে রেখেছে ইত্তেফাক। এখানেই ইত্তেফাক ব্যতিক্রম। ইত্তেফাকের বিনোদন পাতা কয়েক দশক ধরে আমাকে জায়গা দিচ্ছে। এভাবেই পাশে থাকুক ইত্তেফাক।

হানিফ সংকেত: গণমাধ্যমের এই চর্চিত সময়ে নিজেদের সম্পাদকীয় নীতি থেকে শুরু করে পত্রিকার বিন্যাস, সবকিছুতে কমিটমেন্ট ধরে রাখা এক অগ্নীপরীক্ষা। যে পরীক্ষা ইত্তেফাক নিয়মিতই দিয়ে যাচ্ছে। যার ওপর পাঠকরা নির্ভর করতে পারে। ইত্তেফাকের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, পত্রিকাটি কোনোকিছুতেই অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে না। ইত্তেফাক আমাদের কাছে তাই প্রকৃত অর্থেই সমাজের দর্পণ।

অরুণা বিশ্বাস: চলচ্চিত্রে আসার আগে থেকেই ইত্তেফাকের সঙ্গে আমার শখ্য। খবরের জন্য তো তখন ইত্তেফাকের দিকেই তাকিয়ে থাকতাম। কারণ ইত্তেফাকই ছিল বস্ত্তনিষ্ঠ সংবাদের মূল ভরসা। সে সময় অন্যান্য খবরের পাশাপাশি বিনোদন পাতার প্রতি আমার একটু বেশি ঝোঁক ছিল। এখানে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ছাপা হতো। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ইত্তেফাককে পাশে পেয়েছি। এভাবেই আজীবন পাশে থাকুক ইত্তেফাক। জন্মদিনে আন্তরিক অভিন্দন।

মামুনুর রশীদ: ইত্তেফাক পত্রিকায় এক সময় অনেক লিখেছি। এখানো মাঝে মাঝে লিখি। আমাদের নাট্যচর্চা বা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম অভিভাবক দৈনিক ইত্তেফাক। সেদিক দিয়ে আমি ইত্তেফাককে বলি, আমাদের বাঙালির সংস্কৃতির নাম, যে অভ্যাসে আমরা বেড়ে উঠেছি। ইত্তেফাকের সম্পাদক থেকে শুরু করে সকলের প্রতি শুভকামনা।

শাকিব খান: দেশের মানুষের সঙ্গে ইত্তেফাকের সম্পর্ক অনেক পুরনো। বলা চলে, ইত্তেফাক পরিবারের একটি অংশ। ছাত্রজীবন ও ক্যারিয়ারের শুরুতে ইত্তেফাক ছিল সবার আগে। ছোটবেলা থেকে আজ অবধি ইত্তেফাকের কোনো খবরে বিভ্রান্ত হইনি। কখনো অভিযোগ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এভাবেই ইত্তেফাক এগিয়ে যাক, বেঁচে থাকুক হাজার বছর। জন্মদিনে ইত্তেফাকের কলমযোদ্ধাদের জন্য শুভকামনা।

মৌসুমী: যারা পত্রিকা বা চিঠির যুগের তাদের কাছে ইত্তেফাক অনেক স্মৃতিবিজরিত পত্রিকা। আমাদের সংস্কৃতি জগত্ ও মুক্তিযুদ্ধের একটি আর্কাইভ ইত্তেফাক। ক্যারিয়ারের শুরুতেও অনেক সাপোর্ট পেয়েছি ইত্তেফাকের কাছ থেকে। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়, পত্রিকাটি নতুনদের প্রমোট করে। যা খুবই বিরল। পত্রিকাটির মাঝে গণমাধ্যমের দায়িত্ববোধ রয়েছে। সে কারণেই ইত্তেফাক এখনো অবিচল রয়েছে। শুভেচ্ছা ইত্তেফাক পরিবারকে।

কুমার বিশ্বজিৎ: প্রথমে জন্মদিন উপলক্ষে শুরুতেই ইত্তেফাক পরিবারের সকল সৈনিক ও সেনাপতিদের জন্মদিনে শুভেচ্ছা। পত্রিকাটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রেখেই তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। জন্মদিন উপলক্ষে পত্রিকাটির শব্দসৈনিকদের কাছে আমার প্রত্যাশা তারা যেন দেশের শিল্প-সংস্কৃতি, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করে। কারণ ইদানিং গণমাধ্যম বেশি হওয়ায় কে যে সেরা তা নিয়ে বিভ্রান্ত হতে হচ্ছে। তারা অযাচিত হেডলাইন দিচ্ছে। ইত্তেফাক যেন সেই স্রোতে গা না ভাসায়, এই অনুরোধ রইলো।

তপন চৌধুরী: এক সময় পত্রিকা মানেই ইত্তেফাককে বুঝতাম। তাই এখন অন্য পত্রিকা দেখার পরও ইত্তেফাকে চোখ বুলাই। আমার ক্যারিয়ারের অগণিত ছবি ও খবর ছাড়া হয়েছে ইত্তেফাকে। সেই অর্থে কয়েক প্রজন্মের বিনোদন সাংবাদিকের সঙ্গে শখ্যের গল্প রয়েছে। ইত্তেফাক একটি দৈনিকের চেয়ে বেশি কিছু। জন্মদিনে অনেক ভালোবাসা।

ফাহমিদা নবী: জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ইত্তেফাক। ইত্তেফাক সবসময়ই চির তরুণ আমার কাছে। বস্ত্তনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কাছে ক্ষেত্রে পত্রিকাটির ভূমিকা ভোলার নয়। ইত্তেফাকে প্রকাশিত আমার প্রথম খবরটি এখনো যত্নে রেখেছি। এটি আমার কাছে গর্বের যে, এত বছর পরও বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় পত্রিকার মাঝে আমাদের ইত্তেফাকও একটি।

মোশাররফ করিম: ছোটবেলায় ইত্তেফাক পড়তে গ্রামের হাটে চলে যেতাম। সে সময় তো পত্রিকা পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যেত। বেশিরভাগ সময় সেই হাট পর্যন্তই পত্রিকা পাওয়া যেত। শুরু থেকেই ইত্তেফাক তার গ্রহণযোগ্যতা ধরে রেখেছে। তাই কোনো খবর পড়ে দ্বিধায় পড়ে গেলে ইত্তেফাক খুলে দেখি। পত্রিকাটি সঙ্গে আমার অনেক খণ্ডখণ্ড স্মৃতি জড়িয়ে আছে। জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

জাকিয়া বারী মম: ছোটবেলা থেকেই ইত্তেফাকে কখনো চটকদার সংবাদ প্রকাশ করতে দেখিনি। মিথ্যে দিয়ে আলোচনায় আসেনি। তাই সারাদিন আর যাই করি না কেন, একবার হলেও পত্রিকাটি পড়ি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ইত্তেফাক আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে, এখনো পাশে আছে। শুভ জন্মদিন ইত্তেফাক।

নুসরাত ফারিয়া: ক্যারিয়ারের ইত্তেফাকের অবদান কখনো বলে শেষ করা যাবে না। নতুনদের ইত্তেফাকের বিনোদন বিভাগ বরাবরই সহযোগিতা করে থাকে। আমিও শুরু থেকে সেই সাপোর্ট পাচ্ছি। ছোটবেলা থেকেই পত্রিকাটির সঙ্গে আমার পরিচয়। আমার বয়স বাড়ছে, কিন্তু ইত্তেফাক আরো তরুণ হচ্ছে। শুভ জন্মদিন।

তাসনিয়া ফারিণ: ইত্তেফাকের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা শুনে এবং পড়ে বড় হয়েছি। ক্যারিয়ারের শুরুতে ভাবতাম কবে ইত্তেফাকের পাতায় আমার ছবি বের হবে। ভাবতাম, এত বড়মাপের পত্রিকা আমার মতো নতুনের খবর ছাপবে কি-না! কিন্তু পত্রিকাটি সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। শুভ জন্মদিন ইত্তেফাক। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply