প্রার্থীকে জেতাতে গোপন চুক্তি, মিঠাপুকুরের সেই নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক:

মিঠাপুকুরে সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে একজন মেম্বার প্রার্থীকে পাঁচ লাখ টাকায় জেতাতে চুক্তি করা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক আদেশে গত রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারী) তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে চাকরি বিধি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

এর আগে টাকার বিনিময়ে নির্বাচনে মেম্বার পদে জেতানোর চুক্তির অডিও ফাঁস হওয়ায় গত ৩ ফ্রেব্রুয়ারী ওই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয় নির্বাচন কমিশন।

সদ্য শেষ হওয়া সপ্তম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের আগে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানের সাথে কথোপকথন হয়েছিল উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের  সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলামের। তাকে নির্বাচনে বিজয়ী করিয়ে দিতে সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি করেন। ওই সময় রফিকুল ইসলাম গোপনে সেই কথোপকথন মোবাইলে রেকর্ড করেছিলেন।

পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এরপর ওই নির্বাচন কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রত্যাহার করে কুড়িগ্রাম নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। ফাঁস হয়ে যাওয়া অডিওতে শোনা যায়, ইউপি সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে বিজয়ী করিয়ে দিতে ভোটকেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের লোকজনকে বের করে দেওয়া এবং ভোটের আগেই অন্তত ৩শ’ ব্যালট পেপার সরবরাহের চুক্তি করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।

অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন

তিনি ওই ইউপি সদস্য প্রার্থীকে বোঝাচ্ছেন, নির্বাচন করতে গেলে প্রতিদিনই ১০ হাজার করে টাকা ব্যয় হবে ও তাতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হবে। সেটি করলেও তাতে নির্বাচিত হওয়ার কোনো গ্যারান্টি নেই। বরং তাঁর সাথে সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি করলে তিনি যেভাবেই হোক রফিকুলকে জিতিয়ে দিবেন। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি রফিকুলকে জিতিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

বালারহাট ইউনিয়নের  ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য পদ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম দুই দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, ‘টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। একটি পক্ষ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে।’

অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ ওই নির্বাচন কর্মকর্তার টাকা নেওয়ার ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার বিরুদ্ধে চাকরি বিধি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাণোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।’

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply