মিঠাপুকুরে আগাম সবজি চাষ বাড়ছে

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর):

শষ্যভান্ডারখ্যাত রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায়  দিন দিন আগাম শীতকালীন সবজি চাষ বাড়ছে। আবহাওয়ার বৈরিতা, অসময়ে বৃষ্টি আর বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এখন পাতাকপি, ফুলকপি, সীম, লাউসহ বিভিন্ন প্রকার আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় উৎপাদিত সবজির সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। কৃষকদের কষ্টের ফসল বিভিন্ন প্রকার সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যায়। এবারো সেই ধারাবাহিকতায় ভালো দাম পাওয়ার আশা কৃষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রানীপুকুর, লতিবপুর, ময়েনপুর, মিলনপুর, বালুয়া, বড়হযরতপুর, পায়রাবন্দ ও ইমাদপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম শীতের সবজি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। শীতের শুরুতে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবে উৎপাদিত এসব সবজি।

কৃষকরা জানান, নার্সারি থেকে সবজির চারা সংগ্রহ করে ২০ থেকে ২৫ দিন আগে রোপণ করেছেন। ১ একর জমিতে প্রায় ১ হাজার থেকে ১২’শ কপির চারা রোপণ করা যায়। প্রতিটি চারার পেছনে খরচ হয় প্রায় পাঁচ থেকে সাত টাকা। আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি কপি খাবারের জন্য উপযুক্ত হয়। প্রতিটি পরিপূর্ণ কপি খেতেই বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা মূল্যে। সঠিক দাম পেলে এবার লাভের আশাই করছেন কৃষকরা।

কৃষক আনিছুর রহমান, ফখরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানসহ অনেকেই জানান, কপির চারা রোগ-বালাই প্রতিরোধের ক্ষমতা সঞ্চয় করে এবং গাছগুলো সবল হয়। এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় চারাগুলো নষ্ট হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়েছে এবং লাভও বেশী হবে।

মিঠাপুকুর উপজেলা সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৩ শ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে সবমিলে ২ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন জানান, মিঠাপুকুর সবজির জন্য বিখ্যাত। এখানে সব ধরনের সবজির চাষ হয়। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলন ও মূল্য ভালো থাকায় সবজিতে কৃষকরা বেশ মুনাফাও পাচ্ছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবারও চাষিরা বেশ লাভবান হবেন বলে আশা রাখি।

এম২৪নিউজ/কবীর

Leave a Reply