মিঠাপুকুরে আমন ধানের বাম্পার ফলন, ছাড়িয়েছে উৎপাদন লক্ষমাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষিবিদরা মনে করছেন, কৃষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের তৎপরতা ও অনুকুল আবহাওয়ার কারণে ব্যাপক ফলন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরে ৩৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হওয়ার লক্ষমাত্র নির্ধারন করা হয়েছিল। কিন্তু, আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। ১ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি আমন ধান চাষাবাদ করেছেন কৃষকেরা। ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯শ ৯৮ মেট্রিক টন। তবে, এরচেয়েও অনেক বেশি ধান উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। ইতোমধ্যে উপজেলার ৫০ ভাগেরও বেশি জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতগুলোর মধ্যে কর্তনকৃত জমিতে হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছে ৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টনেরও বেশি ধান। এরমধ্যে ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৭৫, স্বর্ণা, বিআর-১১, বিনা ধান-১৭ জাতের ধান বেশি চাষাবাদ হয়েছে। এছাড়াও, স্থানীয় বেশকিছু জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন কৃষকেরা।

উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের লালচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মেহেরুল ইসলাম রহমান বলেন, ফলন গতবারের তুলনায় অনেক ভাল হয়েছে। ১০ কাঠা (২৫ শতক) (২৫ শতক) জমিতে ১৭ মন ধান পেয়েছি। খোড়াগাছ ইউনিয়নের রুপসী গ্রামের কৃষক আখিরুজ্জামান বলেন, ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে, খরচ হয়েছে বেশি। যদি ধানের দাম ভাল পাওয়া যায়, তাহলে বেশ লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের কৃষক নজম উদ্দিন বলেন, এবারে বৃষ্টি কম হয়েছে, বেশিভাগ জমিতে সেচ দিতে হয়েছে। একারণে খরচ হয়েছে বেশি।

রাণীপুকুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রতিনিয়ত কৃষকের সাথে যোগাযোগ ও পরামর্শ দিয়ে ধান উৎপাদনে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছে মিঠাপুকুর কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, কৃষি বিভাগ সর্বদা কৃষকের জন্য নিবেদিত। আমরা প্রত্যক্ষভাবে কৃষকেরা সাথে কাজ করেছি। কৃষকেরাও আমাদের পরামর্শ অনুয়াযী মাঠে মেহনত করেছেন। মিঠাপুকুর কৃষিবিভাগ ও কৃষকের যৌথ প্রচেষ্টা এবং অনুকুল আবহাওয়ার কারণে এবারে আমন মৌসুমে ধানের ভাল ফলন হয়েছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply