
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুবুরে আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব নতুন প্রযুক্তি সারিতে ধানের চারা রোপন, লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করে আমনধানের লক্ষমাত্রা অর্জনে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এছাড়া, পাচির্ং কার্যকরে পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা তাঁদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে চলতি রোপা আমন ফসলে মাঠ পর্যায়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মিঠাপুকুর উপজেলায় ৩৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মহামারি করোনাভাইরাসের যুগে লকডাউনের মধ্যেও উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নের ৫১টি ব্লকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে মাঠে উপস্থিত থেকে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রযুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
গতকাল রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দশান্তিপুর ব্লক, দুর্গাপুর ইউনিয়নের ডাবরা ব্লক এবং পায়রাবন্দ ইউনিয়নের শালাইপুর ব্লকে রোপা আমন ধানের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কার্যক্রম দেখে সন্তুুষ্টি প্রকাশ করেন এবং এ ধারা অব্যহত রাখার জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এ সময় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) অশোক কুমার রায়, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. শামিমুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারন অফিসার মো. লোকমান হেকিম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার এবং সংশ্লিষ্ট বøকের উপসহকারী কর্মকর্তারাগণ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাইন বা সারিবদ্ধ পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দুরত্ব ৮-১০ ইঞ্চি এবং ধানের গুছি থেকে গুছির দুরত্ব ৬-৮ ইঞ্চি। লেগো পদ্ধতি ধান চাষের একটি নতুন প্রযুক্তি। ধানের চারা রোপণের সময় প্রতি ১০ সারির পরে একটি সারি বাদ দেওয়া বা ফাঁকা রাখা হলো লোগো পদ্ধতি। পার্চিং পদ্ধতি হচ্ছে জমিতে পাখি বসার জন্য ডাল পুঁতে দেয়া। এটি পোকা দমনের জন্য একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। পাখি ডালে বসে ক্ষতিকর পোকা মাকড় খেয়ে পোকা দমনে সাহায্য করে। এতে পরিবেশে ঠিক থাকে এবং উৎপাদন খরচ কমে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মিঠাপুকুর উপজেলায় এ বছর ৩৬ হাজার ৫ শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৬ হাজার ১০ হেক্টর (প্রায় ৭০%) জমিতে ধানের চারা রোপণ কাজ শেষ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সারিতে ধানের চারা রেপোন, লোগো পদ্ধতি অনুসরন করলে ধান গাছ পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস পাওয়ায় পোকা ও রোগবালাইয়ের আক্রমন কম হয়। জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে আগাছা দমন, সঠিকভাবে সার প্রয়োগ, ইদুর আক্রমন নিয়ন্ত্রনসহ অন্যান্য আন্তঃপরিচর্যা অনেকটা সহজ হয়। এছাড়া ধানের জমিতে পাচির্ং (জমিতে ডাল পুঁতে দেয়া) করলে পোকামাকড়ের আক্রমন নিয়ন্ত্রন করা যায়। মিঠাপুকুরের শতভাগ জমিতে সারিতে ধানের চারা রেপান, লোগো পদ্ধতি অনুসরন এবং পার্চিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন কৃষি বিভাগ সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ নিয়মিত কৃষকের পাশে মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিয়া হচ্ছে।
এম২৪নিউজ/আখতার