
মো: শামীম আখতার||
মিঠাপুকুরে কৃষি সেচে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাতকুয়া। কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিকল্প সেচ সুবিধার লক্ষ্যে পাতকুয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। পাতকুয়ার মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে কৃষদের মাঝে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মিঠাপুকুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় বর্তমানে ৮ টি পাতকুয়ার পানি সবজি খেতে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণাধিন রয়েছে আরও ২ টি। পাতকুয়ার পানি দিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ একর জমিতে সবজি চাষ করা হচ্ছে।
উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের মাদারপুর, লতিবপুর ইউনিয়নের জানকীনাথপুর, ভাংনী ইউনিয়নের চাঁদপুর, চেংমারী ইউনিয়নের আবিরের পাড়া, রামেশ্বরপুর, গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ উদয়পুর ও ময়েনপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের ১৬০ জন চাষি পাতকুয়ার পানি সেচ দিয়ে সবজি চাষ করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লতিবপুর ইউনিয়নের জানকীনাথপুর গ্রামে পাতকুয়ার পানি দিয়ে সবজি চাষ করছেন কৃষক সাদেকুল ইসলাম। তার জমিতেই পাতকুয়াটি খনন করা হয়েছে। তিনি ২৩ শতক জমিতে শিম ও ২০ শতক জমিতে রসুন চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে খেতে দুই বার সেচ দিয়েছেন। এতে কোন টাকা খরচ করতে হয়নি।
একই এলাকার শহিদুল ইসলাম ভূট্টা চাষ করেছেন। তিনিও পাতকুয়ার পানি দিয়ে খেতে সেচ দিচ্ছেন। এর আগে ফুলকপি, আলু, বেগুন, টমেটো সহ প্রায় সকল ধরনের সবজি চাষেই ব্যবহার করা হয়েছে পাতকুয়ার পানি। ওই এলাকায় একটি পাতকুয়া থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন চাষি জমিতে সেচ দিচ্ছেন। বিনামূল্যে পানি পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে জানান চাষিরা।
সুবিধাভোগী কৃষক আশরাফ হোসেন জানান, তার ৬০ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছিলেন। পাতকুয়ার মাধ্যমে মাত্র ২০০ টাকা খরচে দুইবার সেচ দিয়েছিলেন। অথচ পাতকুয়া নির্মাণের আগে একবার সেচ দিতেই খরচ হতো ৮০০ টাকা।
বিএমডিএ মিঠাপুকুর জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রায়হান হাবীব জানান, প্রতিটি পাতকুয়া ১২০ ফুট গভীর করা হয়েছে। কুয়ার ৬২ ফুট নিচে সাবমারসিবল পাম্প বসানো হয়েছে। কুয়ায় ৮৪টি আরসিসি রিং পাত আছে। একটি পাতকুয়া চলে ৫ কিলোওয়াট শক্তিসম্পন্ন আটটি সৌর প্যানেল দিয়ে। সৌরবিদ্যুৎ পরিচালিত পাম্পটির পানি সংরক্ষণে একটি টাওয়ারের ওপর তিন হাজার লিটারের ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। একটি পাতকুয়া ২৫ বিঘা জমি সেচের জন্য ডিজাইন করা হলেও ব্যাপক চাহিদা থাকায় অধিক জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, এক সময় পাতকুয়ার পানিই ছিল ভরসা। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পাতকুয়া ছিল। পানকরা সহ সব ধরনের কাজে ব্যবহার করা হতো পাতকুয়ার পানি। কারণ পাতকুয়ায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়। বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে নতুন ধরনের পাতকুয়া উদ্ভাবন করেছেন। পাতকুয়া খননের জন্য চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পাতকুয়ার সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
এম২৪নিউজ/আখতার