
স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযানে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে মিঠাপুকুর উপজেলা খাদ্য অফিস। বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় গুদামে ধান বিক্রি করতে কৃষকদের মধ্যে অনীহা রয়েছে।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করতে না পারলেও খাদ্য অফিসের দাবি, নির্ধারিত সময়ের আগেই চাল সংগ্রহ অভিযানে শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে তারা। ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা ২ হাজার ২৭ মেট্টিক টন এবং চাল ক্রয়ের লক্ষমাত্রা ২ হাজার ৭ শত ৩৯ দশমিক ৯৯ মেট্টিক টন নির্ধারন করে সরকার। বাজারের চেয়ে সরকারের নির্ধারিত মূল্য কম হওয়ায় কৃষকরা সরাসরি বাজারে বিক্রি করছেন তাদের আমন ধান। চালকল মালিকরা বলছেন, লোকসান গুনতে হলেও বাধ্য হয়ে খাদ্যগুদামে চাল দিতে হচ্ছে তাদের।
মিঠাপুকুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১৮ নভেম্বর আমন ধান ও চাল সংগ্রহের অভিযান শুরু হয়। এ অভিযান শেষ হবে আগামী ২৮ ফেব্রæয়ারি। এ উপজেলায় সরাসরিভাবে কৃষকের কাছ থেকে ২ হাজার ২৭ মেট্টিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। অন্যদিকে চালকল মালিকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৭ শত ৩৯ দশমিক ৯৯ মেট্টিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাল দিতে ৬৩ জন চালকল মালিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
নির্ধারিত সময়ের আগেই চাল সংগ্রহ অভিযানে শতভাগ সফলতা অর্জন করলেও এক মুঠো ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য অফিস। সরকার প্রতি মণ চাল ১ হাজার ৬৮০ টাকা ও প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ১২০ টাকা করে। তবে স্থানীয় বাজার ঘুরে জানা গেছে, কৃষকরা প্রতি মণ ধান বিক্রি করছেন ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা করে।
উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের লালচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মহুবার রহমান জানান, তিনি ২ বিঘা জমি থেকে ৫৫ মণ ধান পেয়েছেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বেশি মূল্য পাওয়ায় ধান খাদ্যগুদামে না দিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন। একই গ্রামের কৃষক মেহেরুল ইসলাম জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলেন। এতে ১৫৫ মণ ধান পান তিনি। দাম বেশি পাওয়ায় তিনিও বাজারে ধান বিক্রি করেছেন।
ময়েনপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক রোস্তম আলী জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে যা ধান পেয়েছেন, মন প্রতি ১ হাজার ১৭০ টাকা দরে সবই বাজারে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বেশি দাম পেয়েছি।
খোড়াগাছ ইউনিয়নের রূপসী পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক আখিরুজ্জামান জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলেন। এতে প্রায় ১০০ মণ ধান পান তিনি। দাম বেশি পাওয়ায় তিনিও বাজারে ধান বিক্রি করছেন।
মিঠাপুকুর মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রামানিক জানান, বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার আগে মিলারদের সরকারের সাথে চুক্তি হয়েছে। তাই, বর্তমানে বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় লোকসান দিয়েই চাল দিতে হচ্ছে খাদ্য গুদামে।
উপজেলা খাদ্য গুদামের নবাগত ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, চলতি মৌসুমে ধান-চাল ক্রয়ের সময়ই শঠিবাড়ী খাদ্য গুদামে যোগদান করেছি। চুক্তি করা রাইস মিল মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে চাল সংগ্রহের ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছি। এরফলে, নির্ধারিত সময়ের আগেই খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ লক্ষমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। ধান ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমন ধান সংগ্রহ অভিযানে সরকারিভাবে যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তার চেয়ে বেশি দামে ধান বেচাকেনা হচ্ছে। তাই কৃষকরা গুদামে ধান দিচ্ছেন না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা অমূল্য কুমার সরকার জানান, সরকারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে স্থানীয় বাজারে মূল্য বেশি পাওয়ায় কৃষকরা ধান দিতে অনাগ্রহী। তবে, চাল সংগ্রহ লক্ষমাত্রার থেকে অনেক বেশি অর্জিত হয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার