মিঠাপুকুরে বনবীট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ

চলছে গাছ কাটার মহোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার (মিঠাপুকুর):

মিঠাপুকুরে বনবীট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বনের গাছ বিক্রিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগী সদস্য ও ভূক্তভোগীরা এমন অভিযোগ করেছেন বালুয়া মাসিমপুর হেলেঞ্চা বনবীট কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।

হেলেঞ্চা বনবিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০১-২০০২ অর্থ বছরে হেলেঞ্চা বনবীটের আওতায় ১৩টি মৌজায় নতুনভাবে ইউক্যালিপস্টাস ও আকাশমনির চারা রোপন করে বাগান সৃজন করে। ওই সময় আশপাশের গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে বনভূমি রক্ষায় উপকারভোগী সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেককে আবার পাহারাদার নিয়োগ করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ওই বনবিভাগের মামুদেরপাড়া, আন্দরকোটা, গিলাঝুকি ও লোহাকুচি মৌজায় বাগানে নতুন করে গাছের চারা লাগানোর বরাদ্দ হয়। কিন্তু চারা না লগিয়ে পুরাতন বাগানের ভিতর নতুন বাগান দেখানো হয়েছে। যে বাগানে চারা লাগানো দেখা হয়েছে, সেই বাগানে এখনও পুরাতন গাছ দৃশ্যমান রয়েছে। বনবিভাগের কর্তনকৃত গাছের মুড়া (গোড়া) বিক্রির নিয়ম না থাকলেও স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীর কাছে কর্তনকৃত গাছের মুড়াগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন করে সদস্য অন্তর্ভূক্ত করার জন্য ডিডের কপি দেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন উপকারভোগী সদস্যরা।

সরেজমিনে চেংমারি ইউনিয়নের গিলাঝুকি মৌজায় গিয়ে দেখা যায়, সৃজনকৃত বাগানের গাছ কর্তন করার পর নতুন করে চারা লাগানো হলেও যত্নের অভাবে সব চারা মরে গেছে। কর্তনকৃত গাছের মুড়া তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেদারসে।

গিলাঝুকি মৌজার পুরাতন উপকারভোগী সদস্য ভূট্টু মিয়া, আব্দুল কাদের, মেহের আলী ও আনিচ অভিযোগ করে বলেন, বীটকর্মকর্তা আব্দুর রহমান নতুন করে উপকারভোগী সদস্য অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আমাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে প্রায় ২ লক্ষাধিক নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ডিডের কপি হাতে পাইনি। এছাড়াও বনের পুরাতন গাছ বিক্রির পর মুড়া বিক্রির নিয়ম না থাকলেও তিনি মুড়া প্রতি ২১ টাকা করে মোট ১ হাজার ৯’শটি মুড়া বিক্রি করেছেন। নতুন করে চারা না লগিয়ে তিনি পুরাতন বাগানের ভিতর নতুন বাগান দেখিয়েছেন। যে বাগানে চারা লাগানো দেখা হয়েছে, সেই বাগানে এখনও পুরাতন গাছ দৃশ্যমান রয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে বনবীট কর্মকর্তা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা দায়েরের হুমকি দেন।

তারা আরও বলেন, এই বীটকর্মকর্তা টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। পড়ে থাকা জমিতে উপকারভোগী সদস্যরা কোন শষ্য লাগালে তার ভাগ দিতে হয় বীটকর্তাকে। এরআগে অনেক বীট অফিসার এসেছিল। কিন্তু, এরকম বীট অফিসার জীবনেও দেখিনি।

নাম প্রকাশ না শর্তে এলাকাবাসি জানান, আগে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বন চোরেরা গাছ কাটতে শুরু করতো। তারা রিক্সা/ভ্যানযোগে আশপাশের কারাতকলসহ ফাঁকাস্থানে কাটা গাছগুলো স্তুপ করে রাখতো। কিন্তু এখন দিনদুপুরে বীটকর্মকর্তার যোগসাজসে ব্যবসায়ীদের গাছ কাটার মহোৎসব চলছে।

এ ব্যাপরে মোবাইলফোনে কথা হলে হেলেঞ্চা বনবীট কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো ব্যাক্তিগতভাবে লাগানো। কর্তনকৃত গাছের মুড়া বিক্রি ও সদস্যদের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলার সময় নাই বলে ফোন কেটে দেন।

শাল্টিগোপালপুর রেঞ্চ কর্মকর্তা মনজুরুল করিম বলেন, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ অসেনি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।