
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানীকে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের হয়রানী ও কর্তব্যপালনে অবহেলার অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন কারণ দর্শানোর এই নোটিশ দেন। এবং সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়।
গত ২৮ এপ্রিল এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও রবিবার (৮ মে) পর্যন্ত নোটিশের জবাব দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম রব্বানী মিঠাপুকুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর প্রতিবন্ধী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীরা সেবা নিতে এসে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। তার আচরণে সন্তোষ্ট নন কেউই। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ থেকে শুরু করে সাধারন মানুষকে হয়রানী করেই চলেছেন। প্রতিবন্ধী তালিকায় নাম অর্ন্তভুক্ত করতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ হচ্ছেনা অনেকের।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে প্রতিবন্ধী ভাতা খাতে উপজেলায় ৭শ ৯০ জনের অতিরিক্ত বরাদ্দ আসে। বিষয়টি জানার পরও তিনি ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করেননি। দীর্ঘদন পর ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই মাত্র ৬৫ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করেছেন। ১৯ মার্চ’২২ পর্যন্ত ৯ হাজার ৮শ ৭৪ জনের মধ্যে ৯ হাজার একশ ১৭ জনে পে-রোল সম্পন্ন করেছেন। এ কারণে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা যথাসময়ে উপকার বঞ্চিত হয়েছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, ওই কর্মকর্তার কর্তব্যে অবহেলার কারণে সরকারের মূল লক্ষ ব্যাহত হচ্ছে। গরীব, অসহায়, দুঃস্থ্য ও প্রতিবন্ধী মানুষেরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বিভাগীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এ অবস্থায় তাকে গত ২৮ এপ্রিল রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়সীমার পরও নোটিশের জবাব দেননি অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এমনকি, রবিবার (৮ মে) পর্যন্ত নোটিশের জবাব দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
সন্তোষজনক জবাব না পেলে সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর ২ এর (খ) ধারায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, এ নোটিশের কপি কিভাবে পেলেন? অভিযোগ সঠিক নয়। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ভুল বোঝানো হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব তৈরী করা হচ্ছে।’ জনসাধারনকে হয়রানীর বিষয়ে বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি।’
রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল মতিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নোটিশের জবাব পাইনি। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এম২৪নিউজ/আখতার