মিঠাপুকুরে মাদক ব্যবসায়ীর মামলায় ৪ ছেলে বাড়িছাড়া

স্টাফ রিপোর্টার:

একের পর এক ৩টি বিয়ে করেছেন বাবা। এর খেসারত দিতে হচ্ছে প্রথম স্ত্রীর ৪ ছেলেকে। বদমেজাজী বাবার মামলার আসামী হয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন তারা। মিঠাপুকুরে এমন ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

বাবার ইন্ধনে মাদক ব্যবসায়ী কর্তৃক দায়ের করা মামলায় বাড়িছাড়া ওই ছেলেরা হলেন- মো. লিয়ান মিয়া লেট্টু (২৩), মো. স্বপন মিয়া (২২), মো. রতন মিয়া (২৫) ও মো. আরেফিন মিয়া (৩০)। তাদের বাবা মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের বুজরুক ঝালাই গ্রামের বজলু মিয়া একজন চা বিক্রেতা।

সরেজমিনে উপজেলার বালারহাটে গিয়ে এলাকাবাসি সাথে কথা বলে জানা গেছে, বালারহাট বাজারে চায়ের দোকান খুলেছেন বুজরুক ঝালাই গ্রামের বজলু মিয়া (৫০)। তিনি প্রায় ৩৫ বছর আগে একই গ্রামে প্রথম বিয়ে করেন। প্রথম পক্ষের ৪ জন ছেলে রয়েছে। এরপর একে এক আরও দুইটি বিয়ে করেছেন।

প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তানদের ভরণ-পোষণ ও কোনো দেখভাল করেন না। এ নিয়ে ৮/১০ বছর ধরে পারিবারিকভাবে নানা কলহ চলে আসছে। সন্তানরা বড় হয়ে বাবার কাছে ভরণ-পোষণের দাবি করেন। এতে বাবা বজলু মিয়া ছেলেদের সাথে খারাপ আচরণ করেন, মারধর করেন। কারণে-অকারণে এর আগে নিজে এবং বন্ধুদের দিয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানী করে আসছেন।

সর্বশেষ মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ছেলেরা বাবার চায়ের দোকানে গিয়ে ভরণ-পোষণ দাবি করছে আবারও তাদেরকে মারধর করেন পাষন্ড বাবা বজলু মিয়া। এরপর তাঁর এক স্বজন হাবিব মিয়াকে দিয়ে ৪ ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করান। মামলায় আরও ৮ জনকে আসামী করা হয়। ওই আসামীরাও বজলু মিয়ার শ্যালক। মামলার আসামী হয়ে তাঁর ৪ ছেলেসহ ১২ জন পুলিশের ভয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাবু মিয়া ও দুলু মিয়া বলেন, ‘বাদি হাবিব ও ৪ ছেলের বাবা বজলু ভালো মানুষ নন। তারা এলাকায় কলহ বিবাদ সৃষ্টি করেন। তারা টাউটবাজ ও চিটিংবাজ লোক।’ সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ৪ ছেলেসহ ১২ জনের নামে যে মামলা হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।মামলার বাদি একজন খারাপ প্রকৃতির, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী।’

মামলায় বাড়িছাড়া  ৪ ছেলে মো. লিয়ান মিয়া লেট্টু, মো. স্বপন মিয়া, মো. রতন মিয়া ও মো. আরেফিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে করার পর থেকে আমাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়না। তার কাছে গেলে গালাগাল করেন, ভয়ভীতি ও হুমকী দেন। মারপিটও করেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন। আমারা এখন কোথায় যাই।’

মামলার বাদি হাবিব মিয়া বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা লোকজন বলেছে, তা মিথ্যা। আসামীদের ভয়ে আমি বাড়ি যেতে পারছিনা।’ বাড়িছাড়া ৪ ছেলের বাবা বজলু মিয়া বলেন, ‘ছেলেরা আমার অবাধ্য। আমাকে মারতে আসে। তাই মামলা দিয়েছি।’

মিঠাপুকুর থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘ছেলেদের মামলা দিয়ে হয়রানী করার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি জানা ছিলনা। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply