মিঠাপুকুরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিচ্ছেন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক।।

স্টাফ রিপোর্টার:

৫০ শয্যা বিশিষ্ট মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা। এর ফলে, উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন। এরপরও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা কর্মস্থলের পরিবর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে কর্মহীন-দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ১১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে। এসব উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবকাঠামোগত সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলমান রয়েছে। সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবার কাজ চলছে। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে মেডিকেল অফিসার, স্যাকমো, ফার্মাসিস্ট ও এমএলএসএস পদ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯৮ ভাগ চিকিৎকের পদ পূরণ রয়েছে। তিনজন চিকিৎসক প্রেষণে থাকলেও নতুন করে ছয়জন চিকিৎসক এখানে যোগদান করেছেন। এরফলে, কোনও চিকিৎসক স্বল্পতা নেই। এরপরও, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. আবদুল হাকিম ১১টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারকে দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইর্মাজেন্সি ডিউটি করাচ্ছেন। এতে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা মাসে বা সপ্তাহে ৩/৪ দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব করে থাকেন। অন্যদিন বাইরে প্রাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। বেশির ভাগ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার এবং স্যাকমো সরকারী দায়িত্ব ফাঁকি দিচ্ছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার রানীপুকুর, পায়রাবন্দ, ভাংনী, বালারহাট, কাফ্রিখাল ও চেংমারী – এই ৬টি ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। কিন্তু, এসব ইউনিয়নের জন্যও একজন করে মেডিকেল অফিসার, স্যাকমো ও এমএলএসএস পদায়ন করা আছে। সরকারীভাবে সেখানে ওষুধপত্রও বরাদ্দ রয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী- যেসব উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবকাঠামো নেই, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত কক্ষে ওষুধ সংরক্ষণ করে নিয়মিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু, এখানে সেটা করা হচ্ছেনা। এসব ইউনিয়নের বরাদ্দ করা ওষুধপত্র গোপনে আত্মসাৎ করা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সেখানকার চিকিৎসকদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটি করানো হয়। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কনসালটেন্টগণ শুধুমাত্র সকালে ২ ঘন্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে ২/৪টি রোগী দেখেন। এরপর ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎকদেরকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। এর ফলে, প্রত্যন্ত এলাকার জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত করা হচ্ছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারী জিপ গাড়ীটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা প্রায় প্রতি মাসেই সরকারী গাড়ী নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায় যাতায়াত করে থাকেন- এমন ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় অনেকেই এ দৃশ্য দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে মাটিয়াখোলার বিল নিয়ে উত্তেজনা, স্কেবেটর চালিয়ে বিনষ্ট উঠতি বোরোধান

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার কার্যালয়ের গাফিলতির কারণে প্রায় ২শ কর্মচারী গত ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন এক মাস পর গত মার্চ মাসের ৩০ তারিখে পেয়েছেন। কোন কোন কর্মচারী এখন পর্যন্ত ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন পাননি বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. আবদুল হাকিম সমকালকে বলেন, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। দুই একজন চিকিৎসক ডেপুটেশনের থাকার কারণে। ৬টি ইউনিয়নে চিকিৎসক, জনবল এবং ওষুধ বরাদ্দের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সরকারী জিপ গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply