মিঠাপুকুরে হোটেল ব্যবসায়ী দুলালকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি বাবার। তিনি বলেন- আত্মহত্যা নয়, দুলালকে পিটেয়ে হত্যা করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার (মিঠাপুকুর):

রংপুরের মিঠাপুকুরে হোটেল ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বিষপানে আত্মহত্যা করেননি। পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাকে। ছেলের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা। রোববার স্থানীয় প্রেসক্লাব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের বাবা মো. জাবেদ আলী বলেন, আমার বড় ছেলে দুলাল মিয়া একজন হোটেল ব্যবসায়ী। সে গড়েরমাথার অদূরে মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ধারে খাবারের হোটেল প্রতিষ্ঠা করেন। আপনারা সবাই অবগত আছেন, গত ২৪ অক্টোবর মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার এই মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলনা। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চলছে নানা অপচেষ্টা ও অপকৌশল।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে পৃথক আয়োজনে পালিত হলো জেলহত্যা দিবস

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে। ওই সময়ে আমার ছেলে দুলাল মিয়া জমি বিক্রি করেছিল বর্তমান রশিদপুরস্থ হাসনা ফিলিং ষ্টেশনের মালিক তারেক বিন ছালাম বাবু ও মিঠু মিয়ার কাছে। জমি বিক্রি বাবদ আমার ছেলে তাদের কাছে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওনা থাকেন। এই টাকা দিতে টালবাহানা করতে থাকেন ফিলিং ষ্টেশনের মালিক। পাওনা টাকা চাওয়ায় দুলালের বিরুদ্ধে বাবু ও মিঠু বিভিন্ন সময় একাধীক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে।

নিহতের বাবা জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হালিম মন্ডল বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য দুলালের সাথে সমঝোতা করেন। বিবাদীদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে দেন তিনি। বাকি টাকা ২১ অক্টোবর প্রদানের কথা ছিল। ওই দিন প্রতিশ্রুতি মোতাবেক টাকা চাইতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দুলালকে বেধড়ক মারপিট করে। এতে, সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ফিলিং ষ্টেশন সংলগ্ন বাড়িতে রাখা হয়। পরদিন স্বজনদেরকে না জানিয়ে তাকে বিষপানের রোগী দেখিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায় প্রতিপক্ষের লোকজন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অক্টোবর বিকেলে মারা যান দুলাল।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে অভিমানে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

এ ঘটনায় থানায় রহস্যজনক কারণে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ। এটি কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমতবস্থায় মো. জাবেদ আলী সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ছেলের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত দুলাল মিয়ার স্ত্রী রুমা বেগম, ছেলে রিয়াদ মিয়াসহ অন্য স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে অভিযুক্ত তারেক বিন ছালাম বাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, দুলাল মিয়ার লাশ পোষ্ট মর্টেম করা হয়েছে। পোষ্টমর্টেম রির্পোট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।

M24news/এসএ

২ thoughts on “মিঠাপুকুরে হোটেল ব্যবসায়ী দুলালকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

Leave a Reply