
মো: শামীম আখতার|
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে ভোটের লড়াইএ আটজন প্রার্থী থাকলেও নৌকার প্রার্থী রাশেক রহমান, ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আনিছুর রহমান আনিসের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারনা ভোটারদের। তবে নৌকা ও ট্রাক আওয়ামী লীগ দলের নেতা হওয়ায় ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। ইতমধ্যে এই আসনে ১৫০ কেন্দ্রের সবকটি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। এদিকে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় অধিকাংশ ভোটারের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহে ভাটা দেখা যাচ্ছে। অনেকে নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারা নিয়ে সন্দিহান। এজন্য নিরাপদে ভোট দান নিশ্চিত করার দাবি ভোটারদের।
বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, এই আসনে এবার আটজন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তাদের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এইচএন আশিকুর রহমানের ছেলে রাশেক রহমান, ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করা জাকির হোসেন সরকার ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমানের ছোট ভাই আনিছুর রহমান আনিস শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান, গামছা প্রতীকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুল হালিম মন্ডল, চেয়ার প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত এনামুল হক, একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া এবং টেলিভিশন প্রতীকে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রার্থী আব্দুল বাতেন।
মিঠাপুকুর উপজেলার কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে তারা বলেন, এবার নির্বাচনের পরিবেশ ভালো মনে হচ্ছে। তবে নৌকার প্রার্থী রাশেক রহমান ও ট্রাক প্রতীকের জাকির হোসেন সরকার একই দলের নেতা। তাই ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করা প্রয়োজন মনে করেন তারা।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আনিছুর রহমান আনিস বলেন, ‘মানুষ নিবিঘ্নে ভোট দিতে পারলে আমার জয় সুনিশ্চিত।’ ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসের সরকার বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার সমর্থক নেতাকর্মীদের দিয়ে ট্রাক মার্কার সমর্থকের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই আসনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার প্রয়োজন।’ এ সময় নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘কালো’ টাকা ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশেক রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। উনি (জাকির হোসেন সরকার) আমাকে ভুল বুঝতেছেন।’
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের কোনো ঘাটতি নেই। প্রত্যেকটা কেন্দ্রকেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছি, আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক আমাদের প্রশাসনিক নজরদারি রয়েছে।’
সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের সব বিভাগ সমন্বয় করে কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, আমরা সবগুলো প্রতিপালন করছি। অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা সচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি।’
প্রসঙ্গত. ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৯৮৪। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৪ জন। স্বাধিনতার পর এ পর্যন্ত নির্বাচনে এই আসনে দুইবার বিএনপি, তিনবার জাতীয় পার্টি এবং পাঁচবার জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
এম২৪নিউজ/আখতার