
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে ৪ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নিমর্ম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কোম্পানীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ওই নারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী নারীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চিথলী দক্ষিণপাড়ার মৃত. আবদুল কুদ্দুস সরকারের ছেলে কামাল হোসেন রাসেল লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কোম্পানীতে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত আছেন।
প্রায় ১২ বছর আগে পারিবিারিকভাবে কাশিপুর গ্রামের মৃত. সেকেন্দার আলী মন্ডলের মেয়ে সানজিদা আক্তার সিমাকে বিয়ে করেন। সিমেন্ট কোম্পানীতে চাকরি করার কারণে স্বামীর কর্মস্থল সিলেটে বসবাস করে আসছেন সানজিদা। বিয়ের সময় রাসেলকে যৌতুক বাবদ ৬ লাখ এবং ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র কিনে দেন সানজিদার মা। ওই সময় সুখেই সংসার চলছিল তাদের। কিন্তু ৩/৪ বছর পর সংসারে অশান্তি দেখা দেয়।
নির্যাতিত সানজিদা বলেন, ‘স্বামী কারণে অকারণে আমার ওপর অত্যাচার শুরু করেন। বাসায় সময় দেননা। বাবার বাড়ি থেকে আরও চার লাখ টাকা যৌতুক আনতে চাপ দেন। কিন্তু টাকা আনতে রাজী না হওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতেন। মারধর করতেন।’ মাঝে মাঝে শশুড়বাড়ির লোককজনও সিলেটের বাসায় গিয়ে ওই নারীকে মারধর করতো।
সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে কামাল হোসেন রাসেল সিলেট থেকে স্ত্রীকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আবারও যৌতুকের দাবিতে সানজিদাকে মারধর করেন স্বামী ও শশুড়বাড়ির লোকজন। তারা ওই নারীকে বেদম মারপিট করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এ ঘটনায় স্বামী ও শাশুড়িসহ ৪জনকে আসামী করে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন সানজিদা আক্তার।
এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে কয়েকদফা অভিযান চালানো হয়েছে। তবে, পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামীদের ধরতে আবারও অভিযান শুরু করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার