
গ্রামে গ্রামে সরিষা ফুলের হাসি –
মো: শামীম আখতার:
সরিষা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন মিঠাপুকুরের কৃষকরা। বিভিন্ন গ্রামে চোখে পড়ে সরিষা ফুলের হাসির ঝিলিক। এই উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এবারে ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কম পুঁজিতে বেশি ফলন পাওয়ার আশায় সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।
উপাজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, এই উপজেলায় এবার ৭৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, টরি-৭, বিনা সরিষা-১১ জাতের সরিশা চাষ করেছেন কৃষকেরা।
উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। বীজ রোপনের দুই-তিন মাসের মধ্যে সরিষা ঘরে তোলা যায়। সরিষা চাষে কষ্ট কম হয়। বেশি সারেরও প্রয়োজন হয় না। সার প্রয়োগের আগে ভালভাবে একবার নিড়ানি দিলেই হয়।
খোড়াগাছ ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছর সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় এবার আশায় বুক বেধেঁছেন তারা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় উন্নত জাতের সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার এডাপশন ও কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সব রকম পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান অব্যহত রয়েছে। সরিষা বপনের মাত্র ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। সরিষা ফসল উত্তোলন করে একই জমিতে বোরো কিংবা ভুট্টা ফসল অনায়াসে আবাদ করা যায়। এছাড়াও সাথি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, সরিষা গাছের পাতা মাটিতে ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করায় জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। সরিষা আবাদের পর ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদে সারের পরিমাণ কম লাগে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকেরা ভালো আয় করতে পারবেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, এবারে রংপুর জেলায় ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। স্বল্প খরচ ও কম শ্রমে ফলন বেশি হওয়ায় দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন রংপুরের কৃষকরা।

