
শঠিবাড়ী ডিগ্রী কলেজ মাঠজুড়ে কাদা-পানি মিলে হাঁটু পরিমাণ গর্ত সৃষ্টি হয়েছে-
নিউজ ডেস্ক:
দুই মাস আগেও মাঠটি ছিল সবুজ ঘাসে ঢাকা। বর্ষার পানি পেয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করছিল ঘাসগুলো। হঠাৎ গরুর হাট বসানোর কারণে ঘাসের চিহ্নটুকু নেই মাঠে। গরু-ছাগলসহ ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে রংপুর মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী ডিগ্রি কলেজ মাঠে এখন এক হাঁটু কাদা। অথচ বছর দুয়েক আগে মাটি ভরাটের মাধ্যমে মাঠ উঁচু করার জন্য ৬০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বেশি মাটি পড়েনি ওই মাঠে। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানির ওপর গরুর হাট বসায় কাদা-জলে মিশে গেছে বরাদ্দের মাটিগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শঠিবাড়ী গরুর হাট বসানো হয় ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে প্রায় ১০ দিন হাট বসার পর মাঠে চলাচলের কোনো পরিবেশ নেই। কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে গোটা মাঠ। কাদা-পানি মিলে হাঁটু পরিমাণ গর্ত সৃষ্টি হয়েছে মাঠজুড়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠে বাঁশের খুঁটি বসানো হয়েছে গরু-ছাগল বাঁধার জন্য। মাঠের দক্ষিণ পাশে শহীদ মিনারে গরু-ছাগলের মল স্তূপ হয়ে জমে রয়েছে। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে পুরো মাঠ ভরে গেছে কাদায়। হাট ইজারাদারের মুখপাত্র নুরুল ইসলাম প্রামাণিক লালন বলেন, করোনার কারণে গরুর হাট কলেজ মাঠে বসিয়ে দেয় প্রশাসন। আমরা আগের জায়গায় থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের চাপের মুখে ওই কলেজ মাঠে হাট বসাতে বাধ্য হয়েছি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় বছর দুয়েক আগে শঠিবাড়ী ডিগ্রি কলেজ মাঠটি উঁচু করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৬০ মেট্রিক টন গম। কিন্তু নামমাত্র মাটি ভরাট করে কাজ শেষ করে দেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন শঠিবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মেসবাহুর রহমান প্রধান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। এ কারণে নামমাত্র কাজ করলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাননি কেউ। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমতে শুরু করে। তার ওপর গরুর হাট বসায় হাঁটু পরিমাণ কাদা জমেছে মাঠে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের ৬০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল শঠিবাড়ী কলেজ মাঠে। ওই সময় কাজটি করে বরাদ্দ উত্তোলন করেছে প্রকল্প কমিটি।
যোগাযোগ করা হলে শঠিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং প্রকল্প কমিটির সভাপতি মেসবাহুর রহমান প্রধান বলেন, বরাদ্দের পুরোটা দিয়ে মাঠে মাটি ভরাট করা হয়েছে। এ ছাড়া গরুর হাট বসানোর কারণে মাঠটির করুণ অবস্থা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধন্তের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়ে মাঠে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভূঁইয়া বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে শঠিবাড়ী কলেজ মাঠে গরুর হাট বসানো হয়েছে। বরাদ্দ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু ৬০ মেট্রিক টন নয়, ৬০০ মেট্রিক টন বরাদ্দ অপচয় হলেও কিছু করার নেই।
সূত্র: কালের কন্ঠ।
