
স্টাফ রিপোর্টার:
বিয়ের বছর খানেকের মাথায় আরও যৌতুকের দাবি করেন স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন। কিন্তু, যৌতুকের টাকা আনতে না পারায় নববধূকে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন তারা। খবর পেয়ে ওই নববধূর বাবা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রতিবাদ জানালে তাকেও আটকে রেখে রাতভর মারপিট করেন জামাতা ও তার স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল হতে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
জানা গেছে, বছর খানেক আগে ধুমধাম করে বিয়ে হয় উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের জারুল্ল্যাপুর গ্রামের মৃত জাবেদ মুন্সির ছেলে নাজমুল ইসলাম ও পার্শবর্তী বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর নয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের মেয়ে ময়ূরী বেগমের। বিয়ের সময় নাজমুল শ্বশুরবাড়ী থেকে যৌতুক হিসেবে নিয়েছেন একটি মোটরসাইকেল, এক লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র ও তিন লাখ টাকার গহনা।
মাস ছয়েক সময় গড়াতেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফের ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করেন ময়ূরী বেগমের কাছে। কিন্তু গরীব বাবার কাছ থেকে টাকা না আনতে পরায় প্রায়ই নির্যাতন চলত তার উপর। স্বামী নাজমুল ইসলাম, দেবর আসাদুল হক ও শ্বাশুড়ীর নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল ময়ূরী বেগমের দাম্পত্য জীবন। এর জেরেই গত শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধায় স্ত্রীকে বেধরক মারপিট করেন স্বামী নাজমুল ইসলাম। খবর শুনে মেয়ের বাড়িতে এসে প্রতিবাদ করেন শ্বশুর মোস্তাফিজার রহমান।
একারণে, তাঁকেও রশি দিয়ে বেঁধে রেখে রাতভর মারপিট করেন জামাই নাজমুল ইসলাম ও তার স্বজনেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোস্তাফিজারকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘মোটর সাইকেল, আসবাবপত্র ও গহনা বাবদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছি। কয়েকমাস পর আবারও ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারপিট ও নির্যাতন শুরু হয়। কয়েকদফা স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক বসেছিল। কিন্তু, জামাইয়ের লোকজনেরা মানেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্যাতনের খবর শুনে আমি জামাইয়ের বাড়িতে গেলে, তারা আমাকে আটক রেখে রাতভর মারপিট করে।’
গৃহবধূ ময়ূরী বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনই শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনে শিকার হতে হতো। নির্যাতন সইতে না পেরে বাবাকে ডেকেছিলাম। কিন্তু, আমার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন বাবাকেও আটকে রেখে মারপিট করে।’
অভিযুক্ত জামাতা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের সাথে আমার স্ত্রীর বনিবনা হচ্ছিল না। তাই, প্রায়দিনই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো।’ যৌতুকের দাবি ও শ্বশুরকে আটকে রেখে নির্যাতনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
মিঠাপুকুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
এম২৪নিউজ/আখতার