
স্টাফ রিপোর্টার ||
রংপুরের মিঠাপুকুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও ওই কুকুরের আক্রমনের শিকার হয়েছে একটি গর্ভবতী গাভী। এরপর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। শনিবার (১ এপ্রিল) রাতে ও রবিবার উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, ওই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত. নছিম উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৫), একই গ্রামের বাবু মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (৩৭) ও রামচন্দ্রপুর জ্যোৎপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক সৈয়দ আলী (৬০)। তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও রাণীপুকুর পুর্বপাড়া গ্রামের বাতেন মিয়ার একটি গর্ভবতী গাভী ওই কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সন্ধায় উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের আলমগীর স্থানীয় বাজারে গেলে মনিরের দোকানের সামনে হঠাৎ একটি কুকুর তাকে আক্রমন করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে পায়ে কামড় দিয়ে কুকুরটি পালিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর একই গ্রামের ফারুক মিয়া ওই কুকুরের হামলার শিকার হন।
তিনি বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর আমাকে আক্রমন করে। চিৎকার করলে পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়”। এ ঘটনার কিছুক্ষন পর জ্যোৎপাড়া গ্রামের ভ্যান চালক সৈয়দ আলীর উপর কুকুরটি আক্রমন করে এবং ক্ষতবিক্ষত করে। তিনি বলেন, “ডাক্টারের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করি”।
রাণীপুকুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী নুর আলম বলেন, “পাগলা কুকুরের আতঙ্কে আছি। তাই খুব সাবধানে চলাচল করছি”।
স্থানীয় ডা. মশিয়ার রহমান বলেন, “কুকুর কামড়ানো তিনজন রোগী আমার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলো। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি”।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মনু মিয়া বলেন, “কুকুরের কামড়ে একটি গর্ভবতী গাভী সহ তিনজন আহত হয়েছে। তারা চিকিৎসা নিচ্ছে। ওই পাগলা কুকুরকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে”।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেবুল হাসান বলেন, “এখানে কুকুর কামড়ানো কোন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেনি। এ ধরনের চিকিৎসার জন্য আমরা সর্তক আছি”। তিনি আরও বলেন, “কুকুরের কামড়ে আহতদের রেবিক্স ডিসি ইনজেকশন দিতে হয়। মোট পাঁচ ডোজ ইনজেকশন দিতে হবে”।
এম২৪নিউজ/আখতার