মিঠাপুকুরে সহকারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটালেন প্রধান শিক্ষক

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কথা বলার কারনে সহকারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবু’র বিরুদ্ধে। এসময় নাক ফেটে গিয়ে রক্তাক্ত হন সহকারী শিক্ষক হারুনর রশিদ। রবিবার বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের বাতাসন হযরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবু মাদকাসক্ত। বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রধান শিক্ষকের আপন বোন হওয়ায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাটসহ বিদ্যালয়ে অনিয়মিত আসা-যাওয়া করেন।

সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বাতাসন হযরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলার পাইকান উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুল আউয়াল দুপুর ৩টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী কম দেখতে পান। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবুকে অবগত করেন। এবং শিক্ষার্থী বৃদ্ধিসহ লেখাপড়ার মানবৃদ্ধির পরামর্শ দেন। এসময় প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের দোষারোপ করেন। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে এর প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষণিক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং জুতা খুলে সহকারী শিক্ষক হারুনর রশীদ এর গালে আঘাত করেন। এতে তার নাক ফেটে রক্ত ঝরা শুরু হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নারগিছ বেগম ও হবিবার রহমান সহ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাদকাসক্ত। বিদ্যালয়ে এসে পাশের সবজি ক্ষেতে তাকে মাদক সেবন করতে অনেকেই দেখেছেন। সরকারি বরাদ্দ স্লিপের টাকাসহ অন্যান্য বরাদ্দের টাকা লুটপাট করেন। বিদ্যালয়ের কোন কাজ করেন না। বিদ্যালয়টিতে খাবার পানির টিউবওয়েল নাই, ল্যাট্টিনের কুয়ার ঢাকনা খোলা, যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঢাকনা না থাকায় সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রধান শিক্ষক বাবু এসব না দেখে বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করেন।

অভিভাবক ও স্থানীয়রা আরও জানান, প্রধান শিক্ষকের কারনে বিদ‍্যালয়ে সেরকম পাঠদান হয় না। বিদ্যালয়টির সভাপতি প্রধান শিক্ষকের নিজের বোন হওয়ায় প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো বিদ‍্যালয়ে আসা যাওয়া করেন। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পরেও বিদ‍্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বিদ‍্যালয়ের ল্যাপটপ, বরাদ্দের ফ‍্যান, পানির ট‍্যাংক, পাইপ বাসায় নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করছেন।

সহকারী শিক্ষক হারুনর রশীদ বলেন, বিদ্যালয়টি নানা অনিয়মে জর্জরীত। শেণীকক্ষে বাদুড়ের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে ক্লাস নিতে কষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে ল্যট্টিনের ঢাকনা খোলা। যে কোন সময় একটি বাচ্চা পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। বর্ষার সময় বিদ্যালয়ে পানি ওঠে। টিউবয়েল নষ্ট। চক-ডাষ্টার ঠিকমত থাকেনা। ছুটি চাইলে তিনি (প্রধান শিক্ষক) টাকা চান। এসব অনিয়মের কথা বলতে গিয়ে আমাকে জুতা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবু।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবু বলেন, সরকার এখন নানান নিয়মনীতি করেছে। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। আমি প্রধান শিক্ষক। আমি সবখানে সবকিছু বলতে বাধ্য নই। যেখানে বলার বলবো। মারামারির ঘটনা ঘটলেও সব অভিযোগ সত্য নয়।

বিদ্যালয়টির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবুর বড় বোন লুৎফুন নাহার রত্না বলেন, খবরটি শুনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারিকুজ্জামান বাবু ও সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদের সাথে কথা বলে তাদের বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি ভুলবোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকতারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা দুঃখজনক। সহকারী শিক্ষা অফিসার পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply